স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের পর এবার শ্যামা প্রসাদের মূর্তি তৈরীর নির্মীয়মান বেদী ভাঙল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে নোয়াপাড়ার মোহনপুরে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর চাউর হতেই নোয়াপাড়ার মোহনপুরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল ওই এলাকায়।

অভিযোগ, নোয়াপাড়া বিধানসভার মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লকগেট সংলগ্ন এলাকায় শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি স্থাপনের জন্য বেদী তৈরি করছিল বিজেপি । সেই নির্মীয়মাণ বেদীটি বারাকপুর কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপরে তৈরি করা হচ্ছিল। ওই বেদীটি দুষ্কৃতীরা এসে ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই মূর্তি তৈরির কংক্রিটের বেদী ভেঙে দিয়েছে । বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদে মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকগেট সেতু সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করা হয়।

এই বিষয়ে নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিংয়ের অভিযোগ, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের কর্মীদের উপর হামলা করেছে । শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি স্থাপনের জন্য আমরা কংক্রিটের বেদী তৈরি করছিলাম, সেটিও ভেঙে দিয়েছে।

এমনকি আমার দলের সক্রিয় কর্মীর গাড়িতে স্বশস্ত্র তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করে সেই গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করেছে, দলের ৩/৪ জন কর্মী শাসক দলের আশ্রিত গুন্ডা বাহিনীর হাতে আক্রান্ত হয়েছে । পুলিশকে আমরা জানিয়েছি । কিন্তু পুলিশ দলদাস হয়ে কাজ করছে । বাধ্য হয়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি । এছাড়া অন্য কোনও পথ আমাদের সামনে খোলা নেই ।”

এদিকে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল । মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের উপপ্রধান নির্মল করের বক্তব্য, “বিজেপি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে । ওদের নেতা সুনীল সিংয়ের যে অভিযোগ ওর দলের কর্মীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, তা কি করে সম্ভব? সুনীলের সঙ্গে সি আর পি এফ থাকে সব সময়।

যখন হামলা চালানো হয়েছে বলছে, তখন কি সি আর পি এফ ঘুমিয়ে ছিল ? আর ওরা কি মূর্তি স্থাপনের কথা বলছে ? সরকারি জায়গায় মূর্তি স্থাপন করতে গেলে সরকারের অনুমতি ছাড়া সেটা সম্ভব নয় । সরকারি জায়গায় শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি স্থাপনের অনুমতি যদি সরকার দেয় তবে আমরা দাঁড়িয়ে থেকে ওই মূর্তি বসিয়ে দেব । আমরা বিজেপিকে নিয়ে ভাবছি না । এই এলাকায় বিজেপির এত বড় কোনও নেতা তৈরী হয় নি যে তাকে মারলে আমাদের টি আর পি বাড়বে । মিথ্যা বলছে সুনীল সিং।”

এদিকে এই ঘটনায় মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে । বড় গণ্ডগোল এড়াতে মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চলছে পুলিশি টহল।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ