নয়াদিল্লি: ভারতের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে রয়েছে জিন্নার ভূমিকা। এমন মন্তব্য করেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তবে ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ঘুরে গেলেন তিনি। বললেন, এটা ছিল স্লিপ অফ টাং।

শনিবার তিনি বলেন, ”জিন্না নয়, আসলে মৌলানা আজাদের নাম বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে জিন্নার নাম বেরিয়ে আসে।” তবে জিন্নাকে নিয়ে বক্তব্যে তাঁর কোনও আফশোস নেই। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”কীসের আফশোস? আমি যখন ব্যাখ্যা দিয়েই দিলাম যে মুখ ফস্কে বেরিয়ে গিয়েছে। তাহলে আর আফশোস কীসের?”

কিছুদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। পুরনো কেন্দ্র বিহারের পাটনা সাহিব থেকেই কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন তিনি। এক রাজনৈতিক সভায় তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে মহম্মদ জিন্নার প্রশংসা।

দেশের স্বাধীনতা ও উন্নতিতে মহম্মদ জিন্নার বড় ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মধ্যপ্রদেশের চিন্দওয়াড়ায় এক সভায় তাঁকে এই কথা বলতে শোনা গিয়েছে।

একদিকে জওহরলাল নেহরু, মহাত্মা গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে। তার পাশাপাশি জিন্নার প্রশংসাও করেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, ”সর্দার পটেল থেকে নেহরু, মহাত্মা গান্ধী থেকে জিন্না, ইন্দিরা গান্ধী থেকে রাহুল গান্ধী- দেশের স্বাধীনতা ও উন্নতিতে এদের প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। তাই আমি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছি।”

উল্লেখ্য গত বছরেই জিন্নার ছবি ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক হয় আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে হবে পাকিস্তানের স্রষ্টা মহম্মদ আলি জিন্নার ছবি৷ বিজেপি সাংসদের এমনই চিঠিতে তোলপাড় হয় দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷

চিন্দওয়াড়ায় কংগ্রেস প্রার্থী তথা মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের ছেলে নকুল নাথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। সেখানে গিয়ে মোদী সরকারকে জিএসটি ও নোটবন্দি নিয়ে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ”দল ব্যক্তির থেকে বড়, দেশ দলের থেকে বড় আর জাতির থেকে বড় কিউ নয়।”

এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও। তিনিও মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ও নরেন্দ্র মোদীকে একহাত নেন। বলেন, ”আমরা ২১ লক্ষ কৃষকের ঋণ মকুব কর দিয়েছি। আর শিবরাজ ১৫ বছর ধরে মিথ্যা কথা বলে গিয়েছে।”

শত্রুঘ্ন সিনহার এই মন্তব্য নিয়ে আক্রমণ করেছে বিজেপি। মোক্তার আব্বাস নাকভি বলেন, ”জিন্নার আত্মা শত্রুঘ্ন সিনহার শরীরে ঢুকে গিয়েছে।”