কলকাতা: কোনও প্রক্রিয়া মেনে ধর্ষকদের ফাঁসি দেওয়ার দরকার নেই৷ সরাসরি তাদের ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হোক৷ এমনই দাবি করলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দি রায়৷

তিনি বলেন, “আদালতে ফাঁসি চাওয়া হবে, সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে, মা আসবে, বাবা আসবে৷ এতকিছুর দরকার নেই৷ সবার সামনে ফাঁসি দাও, আর সেটা লাইভ টেলিকাস্ট কর৷”

হায়দরাবাদে পশু চিকিত্সকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় উত্তাল সংসদের উভয়কক্ষ। সোমবার রাজ্যসভায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। তিনি বলেন, ধর্ষকদের আমজনতার হাতে তুলে দেওয়া হোক। মানুষই ওদের পিটিয়ে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিক। জয়ার সেই দাবিকে সমর্থন করেছেন এরাজ্যের তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, বিজেপি এমপি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ও৷

এদিনই যাদবপুরের সাংসদ মিমি টুইট করে জানান, “তাঁর (জয়া বচ্চন) মন্তব্যকে সমর্থন জানাচ্ছি। আমার মনে হয় না, নিরাপত্তা দিয়ে ধর্ষকদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার দরকার আছে বা বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।” তাঁর আরও মন্তব্য, সব মন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ করছি, এমন কঠোর আইন আনা প্রয়োজন, ধর্ষণ করার আগে ১০০ বার ভাবা উচিত। এমনকি মেয়েদের দিকে খারাপ উদ্দেশ্যে তাকাতে ভয় পায়।

তেলঙ্গানায় গত বুধবারের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। গত কাল ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সাইবারাবাদ পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চার জনই ট্রাকের কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণ ও ৩৬২ ঝারায় অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

হায়দরাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কালো ব্যান্ড এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান অনেকে। এদিনও কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন অনেক পড়ুয়া।