নয়াদিল্লি: উপমহাদেশে আবেগের অন্য নাম ক্রিকেট৷ আর আর ভারত পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই উত্তেজনা চরমে৷ সামনেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ৷ কাশ্মীরে পুলওয়ামা হামলার পর সাডা় দেশ তোলপাড়৷ পাকিস্তানের সঙ্গে কোন রকম সম্পর্ক রাখতে নারাজ ভারত৷ এই পরিস্থিতিতে মাঠের লড়াইয়ে ইমরানের দেশের সঙ্গে কী খেলা উচিত? ক্রিকেট মহলও দুভাগে বিভক্ত৷ যদিও প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শশী থারুর মনে করেন, ‘‘বিশ্বকাপে দু’দেশের খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত৷ ভারত না খেললে তা হবে আত্মসমর্পণের থেকেও খারাপ৷’’

আরও পড়ুন: কাশ্মীরিদের উপর হামলা বন্ধ করতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

শুক্রবার শশী থারুর বলেন, ‘‘পাকিস্তানকে জবাব দিতে হবে ঠিকই৷ কিন্তু বিশ্বকাপের মতো প্রকিযোগিতায় মাঠে খেলার মাধ্যমেই তা দেওয়া উচিত৷ মনে রাখতে হবে এর আগে বিশ্বকাপের আসরে পাকিস্তান আমাদের হারাতে পারেনি৷ এই পরিস্থিতিতে ওদের সঙ্গে না খেলার সিদ্ধান্ত আত্মসমর্পণের থেকেও খারাপ হবে৷’’

১৪ই ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে৷ শহিদ হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷ হামলার পেছনে পাক মদতের প্রমাণ স্পষ্ট বলে দাবি নয়াদিল্লির৷ তারপর থেকেই আসমুদ্র হিমাচল ক্ষোভের আগুন গভীর হয়েছে৷ আগুনের আঁচ ছিল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মনেও৷ জঙ্গি হামলার পরপরই হারভজন সিং জানায়েছিলেন পাকিস্তানকে সব দিক থেকে ভারতের বহিঃষ্কার করপা উচিত৷ ক্রিকেট না তেলা উচিত তাদের সঙ্গে৷

প্রখ্যাত ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার অবশ্য হরভজন সিংয়ের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন না৷ তাঁর দাবি, খেলার মাঠে লড়াই করা উচিত৷ ক্রিকেট খেলায় মাঠে হারিয়ে বদলা নেওয়া উচিত৷ তবে খেলা হবে কিনা তা দেশের সরকারই ঠিক করবে বলে জানান দেশের প্রাক্তন এই ক্রিকেট অধিনায়ক৷ ভিন্ন পেসার হলেও এদিন গাভাস্কারের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন শশী৷

আরও পড়ুন: যুদ্ধের হুমকি! ‘দেশের মিসাইল দিওয়ালির আতসবাজি নয়’, হুঁশিয়ারি পাক রেলমন্ত্রীর

দেশবাসীর মতকে গুরুত্ব দিয়ে যুদ্ধে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে বহিঃষ্কারের পক্ষে বিসিসিাই৷ তারা এই মর্মে আবেদন করতে পারে আইসিসি-র কাছে৷ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এদিনই আলোচনায় বসেছে বিসিসিাই৷ এর আগে, কূটনৈতিক উত্তাপের জেরে ২০১৩ সালের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক কোনও সিরিজের আয়োজন করেনি ভারত-পাকিস্তান। তবে অন্য মাঠে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।