নয়াদিল্লি: তিনদিন ধরে জ্বলেছে দিল্লি। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৪২ জনের। আগুন নিভে গেলেও, আঁচ আছে এখনও। কারও ঘরে হাহাকার, আবার কারও মুখে শুধুই আতঙ্কের ছাপ। এর মধ্যে কোথাও কোথাও ফুটছে সম্প্রীতির আলো। ঠিক যেমন শারাফতের মেয়ের বিয়ের কার্ডে।

সামনেই এই মুসলিম ব্যক্তির মেয়ের বিয়ে। দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্প্রীতির বার্তা দিতে মেয়ের বিয়ের কার্ডে ছাপলেন হিন্দু দেবতার ছবি। কার্ডে রয়েছে গণেশের ছবি। রয়েছে রাধা-কৃষ্ণের ছবিও। আর একপাশে লেখা আছে ‘চাঁদ মুবারক।’

শারাফাতের এই সম্প্রীতির বার্তায় মুগ্ধ হয়েছেন সবাই। নিজের ধর্ম মেনেও যে সম্প্রীতি বজায় রাখা যায়, তা প্রমাণ করলেন শারাফাত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হল এভাবেই সম্প্রীতির নিদর্শন রাখা যেতে পারে। আমার বন্ধুরা সবাই খুব খুশি এই উদ্যোগে।’

আগামী ৪ মার্চ মীরাটের হস্তিনাপুরে মহম্মদ শারাফাতের মেয়ে আসমা খাতুনের বিয়ে। আর সেই বিয়ের কার্ডেই তৈরি হল নজির।

একদিকে যখন হিংসার আঁচে জ্বলছে উত্তর-পূর্ব দিল্লি, তখন সেখান থেকে কিছু দূরেই মীরাটে ফুটে উঠেছে এক টুকরো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবি।

নিজের ধর্ম মেনেও যে সম্প্রীতি বজায় রাখা যায়, তা প্রমাণ করা শারাফাত জানান, হিন্দির পাশাপাশি উর্দুতে কার্ড ছাপাচ্ছেন। অনেকে হিন্দি পড়তে পারেন না। তাঁর আত্মীয়-বন্ধুদের মধ্যে অনেকেই কাছে। তাই উর্দিতে ছাপানো হচ্ছে কার্ড।

এছাড়াও আরও অনেক নজির গড়েছেন অনেকে। সোমবার যখন এলোপাথাড়ি গুলি চলেছে রাস্তায়, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ি-বাড়ি-দোকান। তখন উত্তপ্ত চাঁদবাগেই এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে মুসলিম যুবকের বিয়ে হয়েছে।

সাবিত্রী নামে ওই যুবতী বলেন, ‘আগের দিন থেকেই কানাঘুষো শুনছিলাম। কিন্তু, তবু হেনা লাগিয়ে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরের দিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কীভাবে পাত্র আসবে, সেটাই ভেবে উদ্বিগ্ন হচ্ছিলেন সবাই।’ কিন্তু প্রতিবেশীরা পাহারা দিয়ে বিয়ে দেন সাবিত্রীর।

প্রতিবেশী আমির মালিক বলেন, ‘আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাব বাস করি।’