মুম্বই: মহাজোটের সম্ভাবনা সামনে আসার পর থেকেই একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? এবার সেই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করলেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার।

মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কারা থাকবেন, সে বিষয়ে শরদ পাওয়ার তিনজন নেতা-নেত্রীর নাম করেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে নরেন্দ্র মোদীও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আর এনডিএর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে থাকছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু ও মায়াবতী।”

শরদ পাওয়ার নাকি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাহুল গান্ধীকে দেখতে চাইছেন না। রাহুলের থেকে বরাবরই আঞ্চলিক নেতা-নেত্রীদের এগিয়ে রাখছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের এই খবর উড়িয়ে দিয়েছেন শরদ পাওয়ার। তিনি বলেন, রাহুল নিজেই একাধিক অনুষ্ঠানে বলেছেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে নেই। তাই এই বিষয়ে কোনও বিতর্ক থাকার কথা নয়।

সপ্তাহ খানেক আগে যখন চন্দ্রবাবু নাইডু ও শরদ পাওয়ার মুম্বইতে ছিলেন, তখন নাইডু বলেন প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে তিনি নেই, শুধু বিজেপি সরকারকে হারানোটাই তাঁর লক্ষ্য।

এর আগে শরদ পাওয়ার দাবি করেছিলেন যে লোকসভ নির্বাচনে বিজেপি অন্তত ১০০ আসন হারাবে। কারণ তাঁর ,তে বিজেপি সরকার সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নতুন নাম ভাবতে হবে বলেই দাবি করেন তিনি।

তবে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা একেবারেই ভাবছেন না বলে জানালেন শরদ পাওয়ার। তিনি বলেন, তাঁর দল এনসিপি মাত্র ২২ টি আসনে লড়াই করছে। ২২টি আসনে জিতলেও সরকার গঠনের জন্য যা সংখ্যা দরকার, তার ধারেকাছেও আসবেন না তিনি। তাই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবাটা ধৃষ্টতা বলেই মনে করেন এনসিপি প্রধান।

মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে বারবার কটাক্ষ করেছে বিজেপি। অখিলেশ যাদব অবশ্য কলকাতায় এসে বলেছিলেন, ”বিজেপি বিরোধী মহাজোট হয়েছে মানুষের স্বার্থে, মানুষের দাবি মেনে। সেই কারণে মহাজোটের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা মানুষই ঠিক করে দেবেন।”

অমিত শাহ এই ইস্যুতে বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেছিলেন, মহাজোট ক্ষমতায় এলে সোমবার মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী হবেন৷ মঙ্গলে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন অখিলেশ৷ বুধে প্রধানমন্ত্রী হবেন মমতা৷ বৃহস্পতিবার শরদ পাওয়ার, শুক্রে দেবগৌড়া, শনিতে স্ট্যালিন হবেন প্রধানমন্ত্রী৷ আর রবিবার ছুটির দিন৷ তাই প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি খালি থাকবে৷

তবে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে পর্যন্ত।