মুম্বই: লাদাখে চিনা আগ্রাসন নিয়ে উল্টে কংগ্রেসকেই বিঁধলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পওয়ার। রাহুল গান্ধীকে বিঁধে এনসিপি সুপ্রিমোর তোপ, ‘সবকিছুতেই রাজনীতি চলে না। সেনাবাহিনী এবং সরকার সজাগ ছিল। তাই চিনারা ভারতের তেমন কোনও ক্ষতি করতে পারেনি।’

লাদাখ ইস্যুতে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের ঠিক উল্টোপথে হাঁটলেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পওয়ার। লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনা সেনার ঢুকে পড়া নিয়ে শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তথা কেন্দ্রীয় সরকারকেই তোপ দেগে চলেছে কংগ্রেস।

সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা লাদাখে চিনা আগ্রাসনকে কেন্দ্রের ব্যর্থতা বলে অভিযোগ করে আসছেন। এমনকী এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করছেন রাহুল গান্ধী।

তবে কংগ্রেসের এই ভূমিকায় একেবারেই সায় নেই মহারাষ্ট্রে তাঁদের জোটসঙ্গী এসসিপির। দলের প্রধান শরদ পওয়ার উল্টে লাদাখ ইস্যুতে কংগ্রেসেরই সমালোচনায় সরব হয়েছেন। এমনকী সীমান্তে ভারত সরকারের নজরদারির প্রশংসাও করেছেন পওয়ার।

পওয়ারের মতে, ‘দেশের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনীতি কাম্য নয়।’ এই ইস্যুতে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে বিঁধে তিনি আরও বলেন, ‘৬২-তে চিনারা ভারতের সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার জমি দখল করে নিয়েছিল। সেটা ভুললে চলবে না। অতীতের ঘটনা মনে রাখা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের ইস্যুতে দয়া করে রাজনীতি টেনে আনবেন না।’

লাদাখে চিনা আগ্রাসন রুখতে সেনাবাহিনীকে দরাজ সার্টিফিকেট পওয়ারের। তাঁর মতে, ‘আমাদের সেনাবাহিনী চিনাদের সরানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ব্যর্থতা বলাটা উচিত নয়। কেন্দ্র ও সেনা সতর্ক ছিল। তাই চিন আমাদের বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। সব কিছুতেই কেন্দ্রকে দোষারোপ ঠিক নয়।’

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল৷ শেষমেশ আসরে নামেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শরদ পওয়ার। কংগ্রেস, শিবসেনা ও এনসিপি জোট বেঁধে তৈরি হয় মহারাষ্ট্র সরকার। যে কোনও পরিস্থিতিতেই বর্তমান সরকার তার মেয়াদ পূর্ণ করবে বলে শুরু থেকেই বলে আসছেন জোটের নেতারা।

পওয়ারেরও সেই একই দাবি। তবে মাঝেমধ্যেই জোটের অন্দরে হালকা চিড় দেখা দিচ্ছে। একাধিক ইস্যুতে মতানৈক্য তৈরি হচ্ছে। এবার চিনা আগ্রাসন নিয়ে জোটসঙ্গী কংগ্রেসের উল্টোপথে হেঁটে দ্বন্দ্ব খানিকটা হলেও বাড়ালেন পওয়ার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ