ফাইল ছবি

তারকেশ্বর: শ্রাবণ মাস মানেই শিবের আরাধনা। যার মধ্যে অবশ্যই রয়েছে তারকেশ্বর। বিশ্বাসে ভর করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমাগম হয় মানুষের। তাই শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারেই তারকনাথের মন্দিরে ছিল পুণ্যার্থীদের ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা বৈদ্যবাটি নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে জল নিয়ে হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে তারকনাথের মাথায় জল ঢালেন পুণ্য অর্জনের জন্য। সেখানে শুরু হয়েছে শ্রাবণী মেলা।

পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেলা উপলক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। প্রায় দেড়শ কর্মী মেলা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। মেলা উপলক্ষে যে সমস্ত রাস্তায় সাময়িক সমস্যা ছিল, সেগুলি মেরামত করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার ২৪ ঘণ্টা জল সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ক্যাম্প, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সিসি ক্যামেরায় নজরদারি, সাদা পোশাকের পুলিস, দুধপুকুরে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরা নৌকা নিয়ে হাজির আছেন। যে কোনও ধরনের বিপদের মোকাবিলা করার জন্য অ্যাম্বুলেনন্সের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শ্রাবণ মাস বাবা তারকনাথের জন্ম মাস বলে কথিত রয়েছে। বিশেষ করে সোমবারে তারকনাথের মাথায় গঙ্গাজল, বেল পাতা দিয়ে পুজো দিলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। এই বিশ্বাস নিয়েই অগণিত মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে তারকেশ্বর মন্দিরে। এই বছর রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী তারকেশ্বর মন্দিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রাবণ মাসের শেষ দুই সোমবার প্রতিবছরের মতো এই বছরেও কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থী আসবেন বলে আমাদের অনুমান।

পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয় তার জন্য তৎপরভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন প্রশাসন। শ্রাবণী মেলার প্রথম সোমবার মেলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এসেছেন প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার। প্রতিবছর যারা শ্রাবণ মাসে তারকনাথ মন্দিরে আসেন তাদের কাছে এই বছর তারকেশ্বরের রূপ অনেকটাই অন্যরকম।