প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: নিজের টাকা খরচ করে বাইক অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দিতে স্থানীয়দের কাছে তিনি সাক্ষাৎ ভবগান৷ জলপাইগুড়ি জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় মিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে পদ্মশ্রী সম্মানের সম্মানিত হয়েছেন মালব্লকের ক্রান্তি এলাকার বাসিন্দা করিমুল হক৷ ভারত সরকার তাঁকে সম্মান দিলেও নিজভূমে ‘ভিক্ষা’ পেলেন না পদ্মশ্রী সম্মানের সম্মানিত করিমুল হক৷ বছরভর পকেটের টাকায় খরচ করে স্বাস্থ্য শিবির চালিয়েও নিজের মেয়ের জন্য সামান্য রক্তটুকু পেলেন না করিমুল৷ উল্টে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গালমন্দ শুনে চূড়ান্ত অপমানিত হলেন পদ্মশ্রী জয়ী এই সমাজসেবী৷ অভিযোগ, ব্লাড ব্যাংকে পর্যাপ্ত রক্ত থাকা সত্ত্বেও করিমুলকে রক্ত দেওয়া দেওয়া হয়নি৷

জানা গিয়েছে, আজ দুপুরে গর্ভবতী মেয়েকে নিয়ে জলপাইগুলি সরদ হাসপাতালে ভরতি করান করিমুল হক৷ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা দেওয়া দেওয়ায় রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়৷ রক্তদানের কার্ড নিয়ে ব্লাড ব্যাংকে রক্ত চাইতে যান তিনি৷ ব্যাংকে রক্ত মজুত রয়েছে বলে নোটিশ বোর্ডে বড়বড় করে লেখা থাকলেও তাঁকে রক্ত না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা তাঁকে অপমান করেন৷ রক্ত না দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হয়৷

চূড়ান্ত অপমানিত হওয়ার পর এদিন তিনি বলনে, ‘‘পরিচয় দেওয়ার পরও সদর হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের কর্মীরা আমাকে অপমান করেন৷ রক্ত থাকা সত্ত্বেও আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য রক্ত না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ আমাকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রূপ করাও করা হয়৷ এই ঘটনায় আমি অপমানিত৷ ব্লাড ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে আমি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ জানাব৷’’

পদ্মশ্রী জয়ী সমাজসেবী করিমুল হককে হেনস্তার অভিযোগ শুনে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক৷ গোটা ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে৷’’