দেবময় ঘোষ, কলকাতা: শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মনমোহনকে নিয়ে লেখা সাংবাদিক সঞ্জয় বারুর বই ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’-এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত ছবি মুক্তি পেয়েছে৷ বই এবং ছবি – দুটিই একই নামের৷ মনমোহন সিংয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনুপম খের৷ প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের তৎকালীন মিডিয়া অ্যাডভাইজার সঞ্জয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না৷ কিন্তু সিনেমাটি ঘিরে বিতর্কও কম হচ্ছে না৷ কংগ্রেস দাবি করছে, লোকসভা নির্বাচনের আগে ওই সিনেমাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তৈরি করা হয়েছে৷ গান্ধী পরিবারকে অপদস্থ করতেই ওই সিনেমা বানানো হয়েছে৷

তবে চুপচাপ বসে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর কংগ্রেস কর্মীরা কলকাতার বিভিন্ন সিনেমা হলে বিক্ষোভ দেখায়৷ এরপরই মমতা বলছেন- ‘‘অ্যাক্সিডেন্টাল পিএম দেখলে ডিজাসট্রাস পিএম-ও দেখতে হবে৷ আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখুন আগে৷ মুখে কোনও হাসিই নেই৷ যেন গব্বর সিং এগিয়ে আসছে …৷’’ ইঙ্গিতটি যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে তা আর বুঝতে বাকি থাকে না৷

তবে একথা ঠিক, ইউপিএ জমানায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে মমতার ‘অম্লমধুর’ সম্পর্ক ছিল৷ মনমোহন সিং-কে ব্যক্তিগত ভাবে মমতা অপছন্দ করতেন- তা নয়৷ কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মন্তব্য করেছেন৷ ইউপিএ-২ চলাকালীন সারা দেশেই মনমোহন সিংকে হাস্যস্পদ করে তুলেছিল সংবাদমাধ্যমের একাংশ৷ সেই সময় মমতা একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের গলা নকল করেন৷ এরপর একটি জনসভায় মমতাকে বলতে শোনা যায়. ‘‘…আমি কী ওকে মারবো? লোকে তো আমায় গুন্ডা বলবে৷’’

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে বলা যায়, দক্ষিণ২৪পরগণার ক্যানিংয়ে একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনাগণ্ডা সম্পর্কে বক্তব্য রাখছিলেন৷ প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যক্তিগতভাবে ১০বার প্রধানমন্ত্রীর (মনমোহন সিংয়ের) সঙ্গে দেখা করেছি৷ আমি আর কী করতে পারি? আমি কী ওকে মারবো? লোকে তো আমায় গুন্ডা বলবে৷ ওরা আমাকে তাই বলে৷ কিন্তু আমার কিছু আসে যায় না৷ জনগণের জন্য আমি শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত যাব৷’’

ভারতবর্ষের কোনও প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কে কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই অপমানজনক কথা বলছেন – তা আগে বিশেষ শোনা যায়নি৷ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগও উঠেছিল৷ মমতা বিরোধীরা বলেছিলেন – শুধু আর্থিক দাবি আদায়টাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না মমতার৷ বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ মানস ভুঁইয়া তখন ছিলেন কংগ্রেসে৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘অসভ্য মন্তব্য৷ অসংসদীয় মন্তব্য৷ একজন মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আশা করা যায় না৷ কলকাতা দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী৷ সেখানকরার এক মানুষের খেকে এই ব্যবহার আশা করা যায় না৷’’

উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও মমতার সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল মনমোহনের৷ মমতার অভিযোগ ছিল উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিকে নির্বাচিত করার আগে সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি এবং জনতা দল সেকুলারের এইচ ডি দেবেগৌড়ার সঙ্গে আলোচনা করছেন মনমোহন৷ কিন্তু তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি৷ মমতার প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ গান্ধীকে চাইছিল না বিজেপি৷

মনমোহনের সঙ্গে শেষমুহূর্তে ঢাকা সফরে না গিয়েও বিড়ম্বনা ঘটিয়েছিলেন মমতা৷ সেসময় ইউপিএ-তেই রয়েছে তৃণমূল৷ প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের দু’দিন আগে রাজ্যের মুখ্যসচিব সমর ঘোষ কেন্দ্র সরকারকে মমতার প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী না হওয়ার কথা জানিয়ে দেন৷ তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য মতপার্থক্যের কারণে মমতা মনমোহনে সফরসঙ্গী হতে চাননি৷ জানিয়েছিলেন, আমাকে বিস্তারিত না জানিয়েই ওই চুক্তি সাক্ষর হতে চলেছিল৷