নয়াদিল্লি: ওটাই ছিল ভোটের টার্নিং পয়েন্ট। প্রকাশ্য রাস্তায় স্টান্টবাজের মতো গুলি চালানো রামভক্ত গোপালই বলে দিয়েছিল উগ্র রাজনীতি কেমন। এমনই জানাচ্ছেন দিল্লি ও জেএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাল মিলিয়ে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও বলছেন-পুলিশের সেই ‘ভয়াবহ হামলা’র কথা। দিল্লির বিধানসভা ভোটে বিজেপিকে কড়া জবাব শাহিনবাগ-জামিয়া নগরের।

এই দুই এলাকা যে বিধানসভায় পড়ছে সেই ওখলা কেন্দ্রে জয়ী আম আদমি পার্টি। গতবারের জয়ী আসন তারা ধরে রাখল। ওখলা কেন্দ্রে জয়ী আমানতুল্লা খান। আপের হেভিওয়েট নেতা তিনি। দলীয় কর্মীদের দাবি, শাহিনবাগের জনরোষ হারিয়ে দিয়েছে মোদী-কে। টানা তিনবার দিল্লি বিধানসভায় জয়ী আম আদমি পার্টি। টানা তিনবার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে এই জয়ের মধ্যেও আপের কপালে কিঞ্চিত ভাঁজ। কারণ, গতবারের তুলনায় লড়াই করেছে বিজেপি। বিশ্লেষণে উঠে আসছে এমন তথ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির নির্বাচনে স্থানীয় উন্নয়নের ইস্যু যেমন কেজরিকে প্লাস পয়েন্ট দিয়েছে, তেমনি বিজেপির পতনের কারণ উগ্রতা। বিশেষ করে, স্থানীয় ইস্যু না এনে শুধুমাত্র পাকিস্তান বিরোধী আস্ফালন। বিশ্লেষকদের আরও যুক্তি সিএএ মতো বিতর্কিত বিষয় নিয়েই পড়ে থাকছে বিজেপি। বিরোধীদের কথায় কথায় দেশদ্রোহী ও পাকিস্তান পাঠানোর হুনকি সাধারণ ভোটার মেনে নেয়নি। দিল্লির শাহিনবাগ ও জামিয়া নগরের ভোটাররা মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁরা লাগাতার সিএএ বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভে সামিল। প্রবল ঠাণ্ডায় তাঁদের জমায়েত বিশ্বজুড়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

 

বিশ্লেষণে বারবার উঠে আসে, সিএএ বাতিলের দাবি জানিয়ে শাবিনবাগের এই জমায়েত বিজেপির পক্ষে বড় কাঁটা। দেখা গিয়েছে, উদারনৈতিক বহুজন এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকি খোদ আপ প্রধান কেজরিওয়াল সেই বিক্ষোভ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও মোদীকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শাহিনবাগের বিক্ষোভকারীরা বারবার বলেছিলেন, ভোটেই এর জবাব পাবেন মোদী। জবাব দিয়েছেন তাঁরা-বিজেপি গোহারা দিল্লিতে।