গজলের সাতসুর এসে মিশল ‘বেলাশেষে’র গানে৷ ধ্রুপদীয়ানা হাত ধরে এল সমসাময়িকতা৷ সুর-তাল-লয়ে আর দু’ই প্রজন্মের শিল্পীদের সমাহারে এক অন্যরকম সন্ধে নেমে এল শহরে৷ সৌজন্যে ইন্দ্রাণী দত্ত৷

অভিনেত্রী সত্তার বাইরেও ইন্দ্রাণী দত্ত নিজে একজন গুণী নৃত্যশিল্পী৷ তাঁর ডান্স ট্রুপ ‘সৃষ্টি’র তরফে প্রতিবারই কোনও না কোনও নতুন নাচের অনুষ্ঠান উপহার পান দর্শক৷ থিম বেসড অনুষ্ঠানই তিনি তুলে রাখেন তাঁর অনুরাগীদের জন্য৷ এবার তিনি উপহার দিলেন ‘শাম-ই-মেহফিল’৷ ‘সৃষ্টি’র সদস্য নিয়ে ক্ল্যাসিক্যাল থেকে সেমি ক্ল্যসিক্যাল গানে জমে উঠল মেহফিল৷ গজলের সাতসুর আর ঘুঙুরের বোলে, গানের ঐশ্বর্য আর নৃত্যের বিভঙ্গে ভরল কলামন্দির৷ পুরো অনুষ্ঠানে অবশ্য বিবর্তনের একটি রূপরেখাই তুলে ধরলেন শিল্পী৷ ধ্রুপদী সংগীত থেকে শুরু করে তাঁর উপস্থাপনা এসে পৌঁছল ‘বেলাশেষে’ ছবির গানেও৷

indrani

 

ইন্দ্রাণী দত্ত ও তাঁর ‘সৃষ্টি’র সদস্যদের নাচ যেমন অনুষ্ঠানের একটা দিক ছিল, তেমনই আর এক আকর্ষণ ছিল দুই প্রজন্মের শিল্পীর মেলবন্ধন৷ এ মেহফিলেই গান শোনালেন শিল্পীর মেয়ে রাজনন্দিনী পাল৷ গান শোনালেন তরুণ সঙ্গীতশিল্পী কিঞ্জলও৷

Shaam-e-mehfil-1

 

আর অনুষ্ঠানের শেষটুকু সম্পূর্ণ করে তোলার জন্য হাতে মাইক্রোফোন তুলে ধরলেন নচিকেতা চক্রবর্তী৷ গজলের সন্ধেয় নচিকেতা ছাড়া আর কোন শিল্পী এমন রামধনু আঁকতে পারতেন বাংলার সঙ্গীতের আকাশে৷ তাঁর নিজের গানের পাশাপাশি, বাংলার সঙ্গীতপ্রেমীরা মুখিয়ে থাকে তাঁর কণ্ঠে একটুকরো মেহেদি হাসান বা গুলাম আলির গজল শুনবেন বলে৷ এদিন সে আশা কানায় কানায় পূর্ণ করলেন শিল্পী৷ নাচে, গানে ‘সৃষ্টি’র এ অনুষ্ঠান তাই যেন হয়ে উঠল সৃষ্টিসুখের উল্লাস৷  

nachiketa