স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নামে কী আসে যায়? না এই কথাটা আর জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না৷ নামে কিন্তু অনেক কিছু আসে যায়৷ আজকের ভারতে ‘নাম’ একটি ঘোরতর রাজনৈতিক বিষয়৷ বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর মোঘলসরাই থেকে এলাহাবাদ একের পর এক নাম পাল্টে গিয়েছে৷

উত্তর প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ মোঘলসরাই কিংবা এলাহাবাদের মতো মুসলিম নাম জড়িত ঐতিহ্যবাহী শহরের নাম পরিবর্তন করেছেন৷ বিষয়টি খেয়াল করে ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব বলেছেন শাহ পদবীটাই তো পারস্যের৷ ওটাতে মুসলিম ছোঁয়া রয়েছে৷ যোগীর উচিৎ সবার আগে অমিত শাহের নাম পরিবর্তন করা৷

ভারতের বিখ্যাত ঐতিহাসিকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য শুভঙ্কর সরকার বলেন, ‘‘ বিজেপি সাধারণ মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় চাল, চিনি, কেরোসিন এসবের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ৷ যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওরা ক্ষমতায় এসেছিল সেগুলোর একটাও পূরণ করেনি৷ এখন এসব নাম পরিবর্তনের মতো বিষয় দিয়ে মানুষকে ভোলাতে চাইছে৷ নিজেদের দোষ , অপদার্থতা ঢাকার প্রচেষ্টা এই সব বিতর্ক৷ আজ যেখানে আমাদের সিলিন্ডার নিয়ে কথা বলতে হত৷ পেট্রোল ডিজেলের দাম কত বেড়েছিল তার তুলনায় কত কমল, সে সব নিয়ে কথা বলা উচিৎ সেখানে আমাদের এইসব নাম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে৷’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এভাবেই আসল জিনিসগুলো থেকে দৃষ্টি ঘোরানো হচ্ছে৷ ইরফান হাবিব যেটা বলেছেন একদম ঠিক৷ ওদের সবার আগে অমিত শাহ আর গুজরাটের নাম পরিবর্তন করা উচিৎ৷ কংগ্রেসের ‘নির্মল ভারত সরিয়ে ‘স্বচ্ছ ভারত’ এনেছে৷ কংগ্রেসের দেওয়া বিভিন্ন নামগুলোকে ওরা পরিবর্তন করছে৷ এভাবে কংগ্রেসের আদর্শকে মুছে ফেলা যায় না৷’’

সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ ঐতিহাসিক ইরফান হাবিবের বক্তব্যের রেশ ধরে বলেন, ‘‘বিজেপির অন্ত:সারশূন্য দেউলিয়া রাজনীতির প্রতি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত , ধারালো পরিহাস করেছেন অধ্যাপক ইরফান হাবিব৷ অমিত শাহ এবং তার ভাই বোনেরা এই পরিহাস থেকে শিক্ষা নিক৷ নাহলে আগামী প্রজন্ম ওদের পরিহাস করবে৷’’

তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বেদ রায় নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে একরাশ বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘‘দেখুন ইরফান হাবিব একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক৷ তিনি ইতিহাস নির্ভর একটি বক্তব্য রেখছেন৷ আমার মনে হয় না ‘নাম পরিবর্তনের’ এই অযথা বিতর্কটি এতটা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য৷ তবে যেটা ইরফান হাবিব বলেননি সেটা হল ভোটের আগে বিজেপি এই সব নাম পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে চাইছে৷ যেটা ওরা বরাবর করে আসে৷ পুরো বিষয়টার বিরোধিতা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন৷ সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের এর বিরোধিতা করা উচিৎ৷’’

মোদী-সরকার বিরোধীরা যাই বলুন না কেন ঝাঁঝের সঙ্গেই ইরফান হাবিবের বক্তব্যের বিরোধিতা করে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘‘উনি অধ্যাপক , শিক্ষা দেওয়া ওনার কাজ৷ নাম পরিবর্তন নিয়ে উনি রাজনীতি করলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক৷ ওনার এমনটা কখনই করা উচিৎ নয়৷’’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ