তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সিভিক টিচার নিয়োগের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পথে নামল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। বুধবার সংগঠনের বাঁকুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের সারদামনি মহিলা বিদ্যালয় থেকে মিছিল করে মাচানতলায় জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে ডেপুটেশন জমা দিতে যান। বিদ্যা ভবন অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তনুশ্রী মণ্ডল।

এসএফআই বাঁকুড়া জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০১১ সালের পূর্বে রাজ্যে ফি বছর এসএসসি-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হত। ২০১১ সালের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ সেভাবে হয়নি বললেই চলে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন রাজ্যে স্নাতক ছাত্র ছাত্রীদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে মাসিক দু’ হাজার ও আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তির ভিত্তিতে ইন্টার্ন হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এই ঘোষণা শিক্ষিত বেকার যুবকদের স্বার্থে নয়। তিনি তার রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই উদ্যোগ নিয়েই। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েই তারা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে এসএফআই নেতৃত্বের দাবি।

একই সঙ্গে এই মিছিল ও ডেপুটেশন থেকে প্রতিটি স্কুলে শিক্ষা ফিস কমানো ও জেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের হোস্টেল গুলি পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়। পরে কয়েকশো এসএফআই সমর্থক মিছিল করে বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সদর কার্যালয় বিদ্যা ভবনে পৌঁছে সভা করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তনুশ্রী মণ্ডল, জয়গোপাল কর প্রমুখ। পরে ওই সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বিদ্যা ভবনে পৌঁছে সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক জগবন্ধু বন্দোপাধ্যায়ের হাতে তাদের দাবিপত্র তুলে দেন। বিদ্যা ভবনের তরফে তাদের দাবিপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে বলে এসএফআই সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

এসএফআই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তনুশ্রী মণ্ডল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন প্রতি বছর দু’লক্ষ বেকারের চাকরি হবে। আর তিনি ঘোষণা করেছেন ইতিমধ্যে ৮১ লক্ষ চাকরি পেয়েছে। এই ঘোষণা শুধুমাত্র ‘ভাঁওতা’ বলে দাবি করে তিনি৷ বলেন, বেকারদের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাঁওতাবাজি করার মাঝেই তিনি ঘোষণা করলেন দুই আড়াই হাজার টাকার বিনিময়ে শিক্ষিত বেকাররা স্কুলে চাকরি পাবে। আমরা এসএফআই মনে করি বেকারত্বের জ্বালাকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তাদের নিয়ে আবারও ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করছেন।

এসএফআই-র পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ইন্টার্নশিপ নয়। যোগ্য ব্যক্তিদের যোগ্যতা অনুসারে বেতন দিয়েই নিয়োগ করতে হবে। এই ঘোষণা কার্যকর না হলে তাদের সংগঠন লড়াই আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলে দাবি করেন তিনি। বিদ্যা ভবন অভিযানে অংশ নিয়ে এসএফআই নেতা জয়গোপাল কর জানান, বর্তমান রাজ্য সরকার বেকারদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থেই সিভিক টিচার নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে তিনি ২০১১ সালের আগের মতোই এসএসসি-র মাধ্যমে পূর্ণ সময়ের শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।