স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রায় এক দশক পর প্রেসিডেন্সিতে ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই৷ ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সিআর) পদের নির্বাচনে ৫৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে এসএফআই। আইসি এগিয়ে ৫০ আসনে। শেষ পর্যন্ত যদি এসএফআই জিতে যায়, তা হলে তারা দীর্ঘ ৯ বছর পর প্রেসিডেন্সি নিজেদের দখলে নেবে।

আড়াই বছর পর কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ ভোট হচ্ছে। তাও আবার রাজ্যের অন্যতম উৎকর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রেসিডেন্সিতে৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রেসিডেন্সির ছাত্র সংসদ কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে উন্মাদনা রয়েছে ক্যাম্পাস চত্বরে। এখনও পর্যন্ত অবশ্য পাল্লা ভারী বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর দিকেই। যদিও চমক দিয়েছে এআইএসএফ। মাত্র কয়েক মাস আগে তারা প্রেসিডেন্সিতে সংগঠন গড়ে ছাত্র ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম বার আত্মপ্রকাশেই তারা দু’টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্য দিকে ডিএসও ১টি, এআইএসএ ১টি, এসজিএ ২টি এবং বিজেপি সমর্থিত ২ প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেন্ট্রাল প্যানেলের সভাপতি, সহ সভাপতি, জিএস, এজিএস, সব পদেই এগিয়ে রয়েছেন এসএফআই প্রার্থীরা। ২০১০-এর ভোটেও পাঁচটি ক্লাসে প্রার্থী দিয়ে তিনটি আসন জিতেছিল টিএমসিপি। কিন্তু অদ্ভুত ভাবেই প্রেসিডেন্সির ভোটে এবার অদৃশ্য বাংলার শাসক দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। যদিও শাসক দলের একাংশের দাবি, তৃণমূলপন্থী ছাত্রদের মধ্যে তিনজন ক্লাস রিপ্রেসেন্টেটিভ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। যদিও তারা কেউই টিএমসিপি-র ব্যানারে লড়েননি।

এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “এটা গণতন্ত্রণের জয়। আমারা যে ছাত্রছাত্রীদের পাশে রয়েছি, এই ফল দেখে তা বোঝা যাচ্ছে। আমাদের আশা, ভবিষ্যতেও পড়ুয়াদের অধিকারের জন্যে লড়াই চালাব।”

এ দিন প্রেসিডেন্সিতে ভোট শুরু হয়েছে বেলা ১১টার পর। প্রেসিডেন্সির মূল গেট বন্ধ রাখা হয়। বাইরে থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি৷ অশান্তির আশঙ্কায় প্রেসিডেন্সির বাইরে রয়েছে পুলিশ বাহিনী।