সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: অশ্লীল যৌন আবেদনে ভরা ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বসিয়েই গ্রেফতার হয়েছেন হাওড়া যুব মোর্চার সোশ্যাল মাধ্যমের দায়িত্ব সামলানো প্রিয়ঙ্কা। এই কাজ করে তিনি ভারতের মুখ সংস্কৃতিতে দাগ লাগিয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষে দাবী এমনটাই।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। মেট গালায় প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার ছবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ বসানো ছবি ভাইরাল হয়। এই ছবি গিয়ে পৌঁছায় তৃণমূল নেতা বিভাস হাজরার কাছে। তিনি ছবি নিয়ে দাশনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে শুক্রবার সকালে প্রিয়ঙ্কাকে তাঁর দাশনগরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্যেকদিন রাজনীতিবিদদের মিম বানিয়ে মুণ্ডপাত করা চলছে। প্রত্যেকদিনই শাসক বিরোধী বিভিন্ন নেতা নেত্রীদের নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল করা হচ্ছে। মমতা থেকে মোদী কাউকেই বাদ দেয় না সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে কি এমন কাণ্ড ছবি দিয়ে ব্যঙ্গ করলেন প্রিয়ঙ্কা যে এত কোটি কোটি ট্রোল এবং ট্রোলারদের ভিড়ে তাঁকেই গ্রেফতার হতে হল?

হাওড়া দাসনগর অঞ্চলের প্রাক্তন কাউন্সিলার বিভাস হাজরার যুক্তি, “রাজ্য তথা ভারতবর্ষের এই মুহূর্তে মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মুখ বা ছবি এমনভাবে বিকৃত করার অর্থ দেশের সংস্কৃতির উপর অশ্লীল দাগ পড়া। সেটা আমরা হতে দিতে চাইনি। তাই আমাদের পক্ষে আমরা অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তাছাড়া এই ছবি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় আমার এলাকায় অশান্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল। অশান্তি থামাতে এলাকার কাউন্সিলর হিসাবে আমার পক্ষ থেকে যেটা করার অর্থাৎ পুলিশকে জানানোর এবং অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি মতো এগিয়েছি।”

আরও পড়ুন: রান নিয়ে গিয়ে ‘আত্মহত্যা’করল ব্যাটসম্যান, ভুল থ্রোতে পেল দু’বার জীবনদান

বিভাস হাজরার আরও যুক্তি, “সবাই ছবিটা দেখেছে। ছবিটিতে অশ্লীলতার যথেষ্ট ছাপ রয়েছে। ওই ধরনের খোলামেলা পোশাকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সুপার ইম্পোজ করাকে আমার সাধারণ নাগরিক হিসাবে একেবারেই ঠিক মনে হয়নি। তাই আমি দাসনগর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাই। সাইবার সেল তাদের সমস্ত রকম পদ্ধতির মাধ্যমে দেখে শুনে ওই মেয়েটির খোঁজ পায়। তারা জানায় প্রিয়ঙ্কা শর্মার প্রোফাইল থেকেই বিষয়টা ভাইরাল হয়েছে। আমাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তারপর পুলিশ যা মনে করেছে পদক্ষেপ করেছে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন , “আমরা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কিছু করিনি। আমরা সম্পূর্ণভাবে আইনের পথে হেঁটেছি।”

আরও পড়ুন: জামা ওড়ানো হল না সৌরভের, আজও আইপিএল ট্রফি অধরা দাদার

এদিকে হাওড়া বিজেপি যুব মোর্চার প্রেসিডেন্ট ওম প্রকাশ সিং বলেন , “রাজ্যে তালিবানি শাসন চলছে। আমার টিমেই মেয়েটি মাস ছয়েক হল কাজ করছে। ওই এলাকায় বিজেপি শক্তি বাড়ছিল। তাই ও তৃণমূলের টার্গেট হয়ে গিয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা ছবিটা বানায়নি। কেউ ফেসবুকে শেয়ার করেছিল, ও সেটা ডাউনলোড করে নিজের প্রোফাইল থেকে শেয়ার করেছে। এইটুকুর জন্য ১৪ দিনের জেল হেফাজত। এ কেমন আইন ব্যবস্থা! আমরা ওঁর জন্য হাইকোর্টে যাব। যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার নেব।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সিপিএমের জমানায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী হিসাবে বলতেন রাজ্যে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। মুখ বন্ধ করে রাখার চেষ্টা চলছে। তাহলে উনি কি করছেন? উনি তো গনতন্ত্রের গলা টিপে মারছেন। বিজেপির যুব সংগঠনকে ভয় দেখিয়ে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামব।”

 

প্রসঙ্গত , ২০১২ সালে ১৩ এপ্রিল পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ নিউ গড়িয়ার একটি সমবায় আবাসন থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি নিউ গড়িয়া ডেভেলপমেন্ট হাউসিং কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সহ-সম্পাদক সুব্রত সেনগুন্তের কম্পিউটার থেকে বেশ কয়েকজনকে একটি ব্যাঙ্গচিত্র ফরোয়ার্ড করেছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায় ও দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়ে ওই ব্যাঙ্গচিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল।

একই ঘটনা ঘটে ২০১৮ সালেও। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে জড়িয়ে ব্যাঙ্গচিত্র তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে চুঁচুড়া সিপিএমের এক নেতা প্রশান্ত কুন্ডুকে গ্রেফতার করা হয়েছি। সেক্ষেত্রেও বিচারক অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।