সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ভালোবাসার কোনও নির্দিষ্ট দিন হয় না। তাত্বিক কথা। ইতিহাস বলছে হয়। আর সেটা ১৪ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ভ্যালেন্টাইনের নামে নামাঙ্কিত হওয়ার আগে এই দিনটি পালিত হত শস্য, ফসলের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে। সামনে রাখা হত ধর্মীয় উৎসব। অন্দরে ছিল চরম যৌনখেলা। সে খেলা চলত জনসমক্ষে।

অস্কার প্রাপ্ত ছবি ‘ফিফটি শেডস অফ গ্রে’তে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশকে দেখানো হয়েছিল বিডিএসএম বা চরম যৌন তৃপ্তিকে সামনে রেখে। দুশো খ্রিস্টাব্দেও এমনই এক যৌনতৃপ্তিকে সামনে রেখেই ফসলের দেবী জুনোর পুজো হতো। পুজোর পরবর্তী সময় আবার আজকের ‘ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড’এর সঙ্গে মেলে। সবটাই চলত ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে।

কেমন সে ইতিহাস?
রোমানরা খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার আগে প্যাগান নামক পৌত্তলিক ধর্মে।দীক্ষিত ছিলেন। প্যাগান ধর্মের লোকজন খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত লিওপারসালিয়া বা ফেব্রুয়ালিয়া পূজা পালন করতো। এই ফেব্রুয়ালিয়া অনুষ্ঠানের নামানুসারে পরবর্তীতে মাসটির নামকরণ করা হয় ফেব্রুয়ারি।

মাসটির ১৩ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই পূজা হতো। পূজার উদ্দেশ্য ছিল দেবতার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পুণ্যতা, উর্বরতা ও সমৃদ্ধি লাভ করা। অনুষ্ঠানের মাঝের দিনটি ছিল খুবই আকর্ষণীয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি দেবীরাণী জুনোর সম্মানে পবিত্রতার জন্য কুকুর আর উর্বরতার জন্য ছাগল উৎসর্গ করা হতো। উৎসর্গীকৃত কুকুর ও ছাগলের রক্তে রঞ্জিত হয়ে যুবকেরা চামড়ার তৈরি সামান্য পোশাক পরতো। তারপর চামড়ার বেত দিয়ে দেবীর নামে তরুণীদের পশ্চাতে আঘাত করতো। এটি যৌন উৎপীড়ন ছাড়া আর কি ? সেক্সুয়াল টার্ম ‘স্প্যাঙ্ক’।

বিশ্বাস করা হতো দেবী এ জন্য ওই তরুণীদের উর্বরতা বাড়িয়ে দেবেন। দিনটির আরও একটি বিশেষত্ব হল, এ দিনেই পরবর্তী এক বছর আনন্দ দেয়ার জন্য দেবীর ইচ্ছায় লটারির মাধ্যমে তরুণরা তাদের তরুণী সঙ্গিনীকে পেতেন। প্রথানুযায়ী বড় একটি বক্সে তরুণীদের নাম লিখে রাখা হতো। সেখান থেকে তরুণরা একেকটি নাম তুলে পরবর্তী বছর লটারী পর্যন্ত নির্বাচিত যুগল একসঙ্গে থাকার সুযোগ পেতেন।

এর পরের ঘটনা সম্রাট ক্লডিয়াস ও ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু পর্ব। ক্লডিয়াস ওই লীলা খেলা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। ভ্যালেন্টাইন এর বিরোধীতা করে আত্মবলিদান দেন। তাঁর মৃত্যুর বহু পরে ৪৯৬ সালে খ্রিস্টানরা সেই লিওপারসালিয়া বা ফেব্রুয়ালিয়া পুজার নাম ও পদ্ধতি পরিবর্তন করে নিজ ধর্মের যাজক স্টিভ ভেলেন্টাইনের নামে অনুষ্ঠানের নামকরণ করেন।এবং ভেলেন্টাইনের মৃত্যু দিবস আজকের ভ্যালেন্টাইনস ডে।

জিওফ্রে চসার তার পার্লামেন্ট অব ফাউলস (১৩৮২) এর মধ্যে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ নিয়ে লেখেন। এরপর উইলিয়াম শেকসপিয়রসহ বহু বিখ্যাত সাহিত্যিক এ বিষয়টিকে সাহিত্যের উপাদান হিসেবে নিয়ে আসেন। ১৬৬০ সালে রাজা চার্লস টু আবার দিনটিকে সরকারিভাবে পালনের প্রথা চালু করেছিলেন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব