গত পঞ্চাশ বছরে দেশে বহু পরিবর্তন হয়েছে। বহু সরকার এসেছে , গিয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনও ব্যাপকভাবে হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগও কম হয়নি। সমুদ্রতলে সুনামির জেরে অনেক স্থানের মানচিত্রই বদলে গিয়েছে। পাশাপাশি বহু ঝড় আছড়ে পড়েছে। প্রাণ কেড়েছে বহু মানুষের। এবার দেখে নেওয়া যাক ১৯৭০ থেকে ২০১৯ এই পঞ্চাশ বছরের সবথেকে ধবংসাত্মক ঝড়গুলির বিষয়ে।

১৯৭০ – ঘূ্র্ণিঝড় ‘ভোলা’র জেরে মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।

১৯৯৯ – বিধ্বংসী সামুদ্রিক ঝড়ে গঞ্জাম, পুরীসহ উপকূল ওডিশা সাফ হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত দশ হাজার মানুষের।

২০০৯ – ঠিক দশ বছর আগে এই মে মাসেই ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। নদীবাঁধ ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছিল। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। মাত্র তিন মিনিটের ঝড় প্রাণ কেড়েছিল ৩৩৯ জনের।

২০১০ – চেন্নাইয়ের অদূরে মহাবলিপুরমের কাছে ধেয়ে ঝড় ‘নিলম’। ৭৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় নিলম নিয়েছিল ৭৫ জনের প্রাণ। ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে।

২০১১ – ঘূর্ণিঝড় থানের দাপটে ৩৩ জন মানুষ প্রাণ হারান। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

২০১৩ – পিলিন ঘূর্ণিঝড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, আন্দামানে ৩০ জন প্রাণ হারান। ক্যাটেগরি ৫ হারিকেনের সমান বলা হয়েছিল এই ঝড়কে। শুধুমাত্র সরকারি তৎপরতার জন্য বাঁচানো গিয়েছিল প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষের প্রাণ।

২০১৪ – ঘূর্ণিঝড় হুদহুদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নেপাল ও পূর্ব ভারতের একাংশ, অন্ধ্র, বিশাখাপত্তনম এবং ওডিশা। টানা তিন মিনিট ১৮৫ কিলোমিটার ভেগে ঝড় বয়েছিল। পরে টানা এক মিনিট ২১৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়েছিল। ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার। হুদহুদ ১২৪ জন প্রাণ কেড়েছিল।

২০১৬ – তামিলনাড়ুর উপকূল ঘেঁষে স্থলভূমিতে ১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ভারদা’। প্রাণ হারান ২২ জন। ২২ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয় রাজ্যের।

২০১৭ – ঘনীভূত হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় অক্ষি। গুজরাতে আছড়ে পড়ে ঝড়। মারা যান ৩৬৫ জন। তামিলনাড়ু উপকূলে জন্ম নিয়ে ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল ২৪০০ কিলোমিটার দূরের গুজরাতে। চার দশকে এটাই ছিল একমাত্র ‘মারাত্মক সাইক্লোন’ যা এতটা পথ অতিক্রম করেছিল সমান শক্তি নিয়ে।

২০১৮ – অক্টোবরে ঘূর্ণিঝড় তিতলি ওডিশার গোপালপুর, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলামে আছড়ে পড়ে। ১৪৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে তিতলির দাপটে প্রাণ হারান প্রায় ৮৫ জন। ৭৭ জন ওডিশায় মারা গিয়েছিলেন। সরকারি হিসেব অনুযায়ী জলের তোরে ভেসে গিয়েছিলেন অন্ধ্রের ৮ জন।

২০১৯- চলতি বছরের গত মে মাসে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন ফনি। ওডিশার উপর আছড়ে পড়ে এই ঝড়। ঝড়ের টার্গেটে ছিল পশ্চিমবঙ্গও। কিন্তু কোনওভাবে এড়িয়ে সেটি বাংলাদেশে আছড়ে পড়ে। ওডিশাতে এই ঝড় ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালাতেও ইসরোর কল্যাণে বিপুল প্রাণহানী এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়।

আর এরই মধ্যে শক্তি পাকিয়ে ধেয়ে আসছে আরও একটি সাইক্লোন। সাইক্লোন বুলবুল। পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনে এই ঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে।