জয়পুর: মঙ্গলের দুপুর গোলাপি শহরে স্বপ্নের উড়ানে পাড়ি মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর। ২০ লক্ষ বেস প্রাইজ থেকে ৮.8 কোটি টাকায় প্রীতির কিংস ইলেভেন পঞ্জাবে। আইপিএলের দ্বাদশ সংস্করণে সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার হয়ে রইলেন তামিলনাড়ুর এই অখ্যাত ক্রিকেটার। পাশাপাশি উনাদকাটকে ফের দলে জায়গা দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করল রাজস্থান রয়্যালসও। যদিও গতবারের তুলনায় তাঁর দাম কমল কিছুটা। পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে গুজরাটের এই বাঁ-হাতি পেসারও ফিরলেন ৮.8 কোটিতে। তবে পিঙ্ক সিটিতে দ্বাদশ আইপিএল নিলামে অবিক্রিত রয়ে গেলেন এমন কিছু বিদেশি ক্রিকেটার, চোখ বোলালে দেখা যাবে তাদের আইপিএল কেরিয়ার বেশ ঈর্ষনীয়। দেখে নেওয়া যাক এমনই সাতজন বিদেশি ক্রিকেটারকে।

ব্রেন্ডন ম্যাককালাম: কলকাতা নাইট রাইডার্স, কোচি তাস্কার্স, চেন্নাই সুপার কিংস, গুজরাট লায়ন্স হয়ে সবশেষে ২০১৮ মরশুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। এযাবৎ আইপিএলে পাঁচ-পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলে ফেলেছেন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ও প্রাক্তন কিউয়ি অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ১০৯ ইনিংসে ইন্ডিয়ন প্রিমিয়র লিগে তাঁর রানসংখ্যা ২৮৮০। নাইট রাইডার্সের হয়ে ২০০৮ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে তাঁর অপরাজিত ১৫২ রানের ইনিংস আজও ক্রিকেট অনুরাগীদের হৃদয়ে গাঁথা। কিন্তু গত মরশুমে কোহলির দলের হয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে রিলিজ করে দেয় ব্যাঙ্গালোর ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০১৮ ছয় ম্যাচে ১২৭ রান করা ম্যাককালাম তাই অবিক্রিতই রয়ে গেলেন দ্বাদশ আইপিএল নিলামে।

ইয়ন মর্গ্যান: লম্বা ছয়ে পটু লিমিটেড ওভার ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক গত মরসুমেও ছিলেন অবিক্রিত। এর আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগে অংশ নিয়েছেন আইরিশ বশোদ্ভুত এই ব্যাটসম্যান। ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ৫২ ম্যাচে চারটি অর্ধশতরান সহযোগে ৮৫৪ রান করা মর্গ্যান সম্পদ হয়ে উঠতে পারতেন যে কোনও দলেরই। কিন্তু নিলামের মেগা আসরে মঙ্গলবার অবিক্রিত রয়ে গেলেন তিনি।

ডেল স্টেইন: ২০১৬ শেষবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছিলেন। চোটের কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়ছিলেন শেষ দুই মরশুমে। বিশ্ব তাবড় তাবড় ব্যাটসম্যানদের ত্রাস দক্ষিণ আফ্রিকার ডান হাতি এই পেসার চোট সারিয়ে ইতিমধ্যেই ফিরেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায়। তাই আইপিএলে পুনরায় স্টেইন গান দেখার অপেক্ষার বুক বাঁধছিলেন আইপিএল অনুরাগীরা। কিন্তু টুর্নামেন্টে ৯০ ম্যাচে ৯২ উইকেট নেওয়া এই বোলারকে মঙ্গলের নিলামে নেওয়ার আগ্রহ দেখাল না কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি।

কোরি অ্যান্ডারসন: ৩০ ম্যাচে ৫৩৮ রান ও ১১ উইকেট সহযোগে আইপিএল কেরিয়ারে ইউটিলিটি অল-রাউন্ডার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এই কিউয়ি ক্রিকেটার। ২০১৪-১৫ মরশুমে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে অভিষেকের পর দিল্লি ডেয়ারডেভিলস এবং গত মরশুমে কুল্টার নাইলের পরিবর্তে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তবে পারফরম্যান্স ফিকে হওয়ায় মরশুম শেষে তাঁকে ছেড়ে দেয় ব্যাঙ্গালোর ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২ কোটি বেস প্রাইসে যে কোনও দলের হয়ে কার্যকরী হয়ে উঠতে পারতেন এই মরশুমে। কিন্তু গোলাপি শহরে নিলামে তাঁকে দলে নিল না কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি।

মর্নি মর্কেল: চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া মর্নি মর্কেলের আইপিএল অভিষেক রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে। যদিও প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে চার ম্যাচ খেলে তেমন কিছুই করে উঠতে পারেননি তিনি। আইপিএলে সেরা সময়টা কাটিয়েছেন ২০১১-১৩ দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে। ৩৭ ম্যাচে ৪৫ উইকেট নিয়ে ২০১৪ মরশুমে যান নাইটদের ডেরায়। সেখানেও ২৯ ম্যাচে ৩২ উইকেট নিয়ে ভালোই সফল ছিলেন মর্কেল। তবে ২০১৬ মরশুমের পর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অনিয়মিত হয়ে পড়া মর্কেলের দিকে নজর ছিল এবারও। কিন্তু এবারেও অবিক্রিত রয়ে গেলেন এবারও।

ক্রিস ওকস: ২০১৭ মরশুমে নাইট রাইডার্সের হয়ে ১৩ ম্যাচে ১৭ উইকেটের মালিক গত মরশুমে আরসিবি’র র‍্যাডারে ধরা দেন এই ইংরেজ অল-রাউন্ডার। কিন্তু মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে দেশে বিমান ধরেন তিনি। যাওয়ার আগেও তাঁর নামের পাশে লেখা হয়ে যায় আট উইকেট। তাই আশা করা হচ্ছিল ২০১৯ মরশুমে তাঁকে নেওয়ার জন্য ঝাঁপাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি। কিন্তু আখেরে হল উল্টোটাই। আসন্ন মরশুমের জন্য দলই পেলেন না ওকস।

এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন শন মার্শ, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ, হাসিম আমলার মত নাম। যারা ২০১৯ আইপিএল নিলামে ডাক পেলেন না কোনও দলে। জো ডেনলি, অ্যানরিচ নর্টজে, শিমরন হেটমেয়ার, স্যাম কুরানের মত নতুন প্রতিভাদের ভিড়ে কার্যত ফিকে একদা আইপিএলে সাড়া জাগানো এমনই কয়েকটি নাম।