দেবময় ঘোষ, কলকাতা: কলকাতা এবং লাগোয়া এলাকার ৭টি বড় দুর্গাপুজো কমিটি চায় বিজেপির কোনও শীর্ষ নেতা তাদের পুজোয় ‘মুখ্য ব্যক্তিত্বে’র ভূমিকা নিক।

রাজ্য বিজেপির দাবি, এই পুজো কমিটির গুলি নিজেই যোগাযোগ করেছে পার্টির সঙ্গে। সকলেই চায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুজো উদ্বোধন করুন।

কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ওই পুজো কমিতিগুলি নিজেদের ইচ্ছা প্রকাশ্যে জাহির করতে পারছে না। কারণ, বিভিন্ন পুজো কমিটিতে বিজেপি প্রতিনিধিরা আক্রমণের মুখে পড়েছেন। এখনও পর্যন্ত ৫০ টিরও বেশি কমিটি যোগাযোগ করেছে রাজ্য বিজেপির সদর দফতর মুরলিধর সেন লেনে।

রাজ্য বিজেপির সম্পাদক তথা ক্রীড়া ও ক্লাব সেলের দায়িত্বে থাকা তুষার ঘোষ দুর্গাপুজোর বিষয়টি দেখভাল করছেন। kolkata24x7 কে তিনি বলেন, ” কলকাতা এবং লাগোয়া এলাকার ৭টি নামি এবং বড় পুজো চায় বিজেপি নেতারা কমিটিতে যুক্ত থাকুন। ওই কমিটিগুলি নিজেরাই তা চায়। ওরাই যোগাযোগ করেছে।”

তুষারের কথায়, “দক্ষিণে কালীঘাট, সন্তোষপুর, বেহালা, এছাড়া উত্তর কলকাতা এবং শিয়ালদহের পুজোয় রয়েছে।”

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর দক্ষিণ কলকাতার সংঘশ্ৰীর পুজোয় সভাপতি হওয়া নিজে বড় গণ্ডগোল হয়েছে। শোনা যাচ্ছিল, ওই পুজো উদ্বোধন করার জন্য অমিত শাহকে আমন্ত্রণ জানানো ক্ষেত্র প্রস্তুতির মাঝেই তৃনমূল কংগ্রেস বিষয়টি ধরে ফেলে। বিজেপির দাবি ওই কমিটিতে তৃনমূল প্রভাবিত মানুষরা গণ্ডগোল পাকিয়েছেন। সায়ন্তন নিজে দাবি করেছেন তার কাছে ৫৪ টি পুজো কমিটি আবেদন করেছে। বেশিরভাগের দাবি, তারা চায় অমিত শাহ পুজো উদ্বোধন করুন।

সায়ন্তন বলেন, “অমিত জি নিজেও চান তিনি কলকাতায় আসে দুর্গা পুজো উদ্বোধন করুন। কিন্তু, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীড সফর এত সহজে হয় না। আমরা সব কমিটির আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, রাজ্য বিজেপিতে আলোচিত হয়েছে, নেতারা কি শুধুই রাজনীতি করবেন? তাদের কোনও সামাজিক ভূমিকা থাকবে না। কোনও পুজো কমিটি বা সংস্থা সম্মান জানিয়ে কমিটিতে জায়গা দিলে অবশ্যই যাওয়া উচিত। তবে ওই নেতাকে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন তাঁকে ব্যবহার করে কমিটি কোনও দুর্নীতিমূলক কাজ না করে। ইতিমধ্যেই সাংসদসহ বিভিন্ন নেতাদের কাছে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির ‘চিফ পেট্রন’ হওয়ার আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে। কিছু কমিটি পার্টির থেকে আর্থিক অনুদানও চায়। বিজেপির মতে, দলের কোনও নেতা ব্যক্তিগতস্তরে কোনো পুজো কমিটিকে সাহায্য করতে চাইলে করতেই পারেন। তবে দেখতে হবে, নেতারা যেন ব্যবহৃত না হয়ে যান। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে বিজেপি নেতারা শুধু রাজনীতিই করবেন না, সামাজিক বিষয়েও তাঁদের ভূমিকা থাকবে।

বিজেপির কলকাতা উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দীনেশ পাণ্ডে যেমন বলছেন, মাধব দত্ত লেন, হাটখোলা সর্বজনীন, নিমতলা সর্বজনীনের মতো পূজোগুলিতে বিজেপি নেতারাই থাকবেন। কিন্তু, ব্যক্তি হিসেবে, পার্টি যুক্ত হবে না।