নয়াদিল্লি: রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। সেই রিপোর্টই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে সিবিআই। যা দেখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জানিয়েছেন, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

রাজীবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। সেই শুনানিতেই খামে ভরা রিপোর্টে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছে সিবিআই। ছ’পাতার একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।আরও পড়ুন: রাজীব কুমারকে দেখে কষ্ট হচ্ছে: কুণাল

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এদিন সিবিআই-কে বলে, এত গুরুতর অভিযোগ দেখে চুপ করে বসে থাকবে না সুপ্রিম কোর্ট। তিনি সিবিআই-কে নির্দেশ দিয়েছেন যে এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তার জন্য একটি আবেদন করতে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সেই আবেদন করা হয়েছে। রাজীব কুমারের তরফ থেকে কোনও বক্তব্য না শুনে এখনই কোনও পদক্ষেপ নেবে না শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারতির নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চে চলছে এই মামলার শুনানি। রয়েছেন বিচারপতি দীপক গুপ্তা ও সঞ্জীব খান্নাও।

সারদা কেলেঙ্কারিতে রাজ্য সরকারের গঠন করা সিটের মাথায় ছিলেন রাজীব কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বাড়িতেও হাজির হয় সিবিআই অফিসাররা। তাঁদের বাধা দেয় কলকাতা পুলিশ। এরপরই ধর্মতলায় ধরণায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: ‘রাতেই ফোন করেন রাজীব কুমার,’ শিলং থেকে ফিরে বিস্ফোরক কুণাল

এর আগে অভিযোগে সিবিআই জানিয়েছিল, ফোনের কল লিস্ট থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমতি নিয়ে ‘ডিলিট’ করে দেওয়া সেই কললিস্ট সার্ভিস প্রোভাইডরের কাছে পুনরুদ্ধার করে তারা। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ,এই অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শিলং-এ নিয়ে গিয়ে রাজীব কুমারকে জেরাও করে সিবিআই। সেই জেরায় উপস্থিত ছিলেন কুণাল ঘোষও। সেখানে যে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলেছিল, তার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল সিবিআই। টানা পাঁচদিন ধরে অন্তত ৩৬ ঘণ্টা জেরা চলে রাজীব কুমারের।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পদ বদল হয়েছে রাজীব কুমারের। রাজীব কুমারকে সরিয়ে দেওয়া হলে কলকাতার নগরপালের পদ থেকে৷ এডিজি সিআইডি পদে বসানো হয়েছে রাজীব কুমারকে।