লন্ডন: ধারে-ভারে বায়ার্নের চেয়ে অনেক অনভিজ্ঞ ল্যাম্পার্ডের এই তরুণ চেলসি। তার উপর সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দেও নেই দল। প্রিমিয়র শেষ পাঁচ ম্যাচে জয় মাত্র একটিতে। এমতাবস্থায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বায়ার্নের বিরুদ্ধে চেলসির হয়ে বাজি বিশেষ কেউই ধরেননি। তবু ম্যাচের আগে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ মেনে নিয়েও তরুণদের নিয়েই শক্তিশালী বায়ার্নকে সবক শেখানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন ব্লুজ কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে যে যোজন ফারাক সেটা মাঠে নেমে বুঝিয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজকে একপ্রকার ঘরের মাঠ বানিয়ে চেলসিকে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৩-০ গোলে ধরাশায়ী করল বাভারিয়ানরা। বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক সার্জ গ্যাবরি। অপর গোলটি রবার্ট লেওয়ানডোস্কির। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট পর্বে চেলসির ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ দলের প্রতিনিধি হিসেবে এতদিন জোড়া গোল ছিল কেবল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডিনহোর দখলে।

২০০৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এসে জোড়া গোল করেছিলেন বার্সেলোনার রোনাল্ডিনহো। যদিও ম্যাচটি ২-৪ গোলে হারতে হয়েছিল কাতালান ক্লাবকে। কিন্তু এদিন গ্যাবরির জোড়া গোলে ঘরের মাঠে মাথা তুলে দাঁড়াতে ব্যর্থ ব্লুজ’রা। এর আগে গ্রুপ লিগে টটেনহ্যামের বিরুদ্ধেও লন্ডনে গিয়ে ঝড় তুলেছিল বায়ার্ন। স্পারসদের ৪ গোল দিয়েছিলেন লেওয়ানডোস্কিরা। আর এদিন প্রি-কোয়ার্টারের প্রথম লেগে চেলসির ঘরের মাঠে তাদেরই ৩ গোলে হারিয়ে শেষ আট কার্যত পাকা করে ফেলল হান্স ফ্লিকের দল।

প্রথমার্ধ নিষ্ফলা থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে বাভারিয়ানদের ঝড়ে বেসামাল হয়ে পড়ে চেলসির রক্ষণ। ৫১ মিনিট ও ৫৪ মিনিট, তিন মিনিটের ব্যবধানে পলিশ স্ট্রাইকার লেওয়ানডোস্কির অ্যাসিস্ট কাজে লাগিয়ে জোড়া গোল তুলে নেন তরুণ জার্মান স্ট্রাইকার। এরপর ৭৬ মিনিটে নিজেই স্কোরশিটে নাম তোলেন পোলিশ স্ট্রাইকার। চেলসির হতাশা বাড়িয়ে ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মার্কোস অ্যালোন্সো।

যা পরিস্থিতি তাতে আগামী ১৮ মার্চ আলিয়াঞ্জ এরিনায় কাজটা পর্বতসম কঠিন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দলের জন্য। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে এদিন ম্যাচের সেরা নিঃসন্দেহে লেওয়ানডোস্কি। ক্যাবালেরো ঢাল না হয়ে দাঁড়ালে প্রথমার্ধেই একাধিক গোলে দলকে এগিয়ে দিতেন পোলিশ স্ট্রাইকার। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে দলের তিনটি গোলের পিছনেই অবদান তাঁর। তাই ম্যাচের সেরা বাছতে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয়নি নির্বাচকদের।