নয়াদিল্লি: কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা নেত্রীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে পাকিস্তানের৷ বিশেষত উপত্যকায় সন্ত্রাসের উসকানি দিতে এদের নিয়মিত অর্থসাহায্য করা হয় প্রতিবেশি দেশ থেকে৷ এমন তথ্য আগেই জানিয়ে ছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ৷ তারপরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তৎপরতা বাড়ে৷ কড়া নজরদারি চালু হয় কাশ্মীর জুড়ে৷ চলে ধরপাকড়৷ এনআইএ-র জালে ধরা পড়ে একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা৷

নজরদারি ও গ্রেফতারির পর নয়া রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এনআইএ৷ জানা গিয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আর সাহায্য করতে পারছে না পাকিস্তান৷ মূলত কড়া নজরদারির জন্য সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে৷ অর্থ সাহায্য আসাও প্রায় বন্ধ হয়েছে কাশ্মীর জুড়ে৷

অধিকাংশ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, যেমন সৈয়দ আলি শাহ গিলানিরা আপাতত বেশ বিপাকে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে উদ্ধৃত করে জি নিউজের সূত্র বলছে তহবিল বৃদ্ধি করার নাটক বন্ধ হয়েছে কাশ্মীরে৷ অনুদানের নামে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রীতিমত মোটা অংকের অর্থ পেতেন৷ এই অর্থই চলে যেত উপত্যকার সন্ত্রাসবাদীদের হাতে৷ সেই পথ বন্ধ করা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন : গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে মন্দির ভাঙল জাতীয় রাজধানীতে

এই গোয়েন্দা রিপোর্ট পৌঁছেছে কেন্দ্রের কাছে৷ রিপোর্ট বলছে একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা বেশ চিন্তায়৷ রমজান মাসে আইএসআইয়ের পক্ষ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল অর্থ পৌঁছে দেওয়ার৷ কিন্তু প্রত্যেকটাই ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি গোয়েন্দাদের৷ বিভিন্ন মসজিদেও টাকা পৌঁছে দেওয়া হত বলে খবর মিলছে৷ তবে রমজানে শাব-এ- কাদর চলাকালীন সে পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি৷ ফলে অর্থ এসে পৌঁছয়নি সন্ত্রাসবাদীদের হাতে৷

সূত্রের খবর, শুধু এনআইএ-ই নয়৷ কড়া হাতে পদক্ষেপ করেছে ইডি ও আয়কর দফতর৷ উপত্যকায় কখন, কোন পথে কত অর্থ ঢুকছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিতে শুরু করেছে তারা৷ ফলে অবৈধ উপায়ে অর্থ আমদানি অনেকটাই আটকানো গিয়েছে৷

আরও পড়ুন : ৩৭০ ধারা তুলে নিলে কাশ্মীর আর ভারতের থাকবে না: ফারুক

এনআইএ জানিয়েছিল, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবির সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগ রয়েছে পাকিস্তান সেনার৷ দিন কয়েক আগেই গ্রেফতার করা হয় এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে৷ এরপরেই শুরু হয় জেরা৷ তারপর উঠে আসে একাধিক তথ্য৷ এনআইএ সূত্র জানায়, আসিয়াকে জেরা করে জানা গিয়েছে কাশ্মীরে লস্কর ই তৈবা ও জামাত উদ দাওয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে এই আসিয়া৷ সেখান থেকেই পাক সেনার একাংশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রেখে চলে সে৷ সম্পর্কে এক পাক সেনা অফিসার আসিয়ার আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে৷

পাশাপাশি জানা যায়, হুরিয়ত কনফারেন্সের একাধিক নেতাকে জেরা করা হয়েছে এই আসিয়ার দেওয়া তথ্যসূত্র ধরে৷ পাকিস্তান থেকেই মূলত টাকা আসছে বলে খবর৷ এক বিবৃতিতে এনআইএ জানায় আসিয়ার ছেলে জাহুর ওয়াতালির মালেশিয়ায় পড়াশুনার খরচ এসেছিল পাকিস্তান থেকে৷ এই জাহুরও গ্রেফতার হয়েছে হাওয়ালা মামলায়৷ আপাতত দিল্লির তিহার জেলে বন্দী এরা৷

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV