তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আধুনিকতার ছোঁয়া এবার শিক্ষক দিবসেও! রথ দেখা কলা বেচা দুই-ই সারতে এবার শিক্ষক দিবসে ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ নিয়ে হাজির হল একটি কেক প্রস্তুতকারক সংস্থা৷ তিলোত্তমা কলকাতায় নয়, এই চিত্র ধরা পড়েছে পাহাড়ে জঙ্গলে ঘেরা মফ:স্বল জেলা বাঁকুড়ায়৷

অভিনব এই বিপণণী পদ্ধতি বাঁকুড়া জুড়ে সুপার হিট বললেও কম বলা হয়৷ ১৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সাইজের বিভিন্ন স্বাদের কেক দেদার বিকোচ্ছে বাঁকুড়া জুড়ে৷

শিক্ষক-ছাত্র মধুর সম্পর্ককে সুদৃঢ় বন্ধনে বাঁধতে টিচার্স ডে বা শিক্ষক দিবস উদযাপনের জুড়ি মেলা ভার। বর্তমানে স্কুল-কলেজে শিক্ষক দিবস পালনের পাশাপাশি প্রাইভেট টিউশনগুলিতেও জাঁকজমকের মাধ্যমে ‘টিচার্স ডে’ পালন করা হচ্ছে। যেখানে শিক্ষককে আলাদা করে সম্মান জানানোর পাশাপাশি বিশেষ এই দিনে আনন্দ আর হুল্লোড়ে মেতে ওঠেন সকলে। অনেক জায়গাতেই থাকে খাওয়া দাওয়ার বিপুল আয়োজন। আর এই আনন্দ মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বাঁকুড়া শহরের কেক সরবরাহকারী সংস্থা ‘হ্যাঙ্গ আউট’ এবার হাজির করেছে রকমারি স্বাদের অপূর্ব দৃষ্টিনন্দন সব কেক। যা কিনতে স্কুল পড়ুয়াদের পাশাপাশি শহরের কলেজ-বিশ্ব বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও এই সংস্থার শোরুমে সকাল থেকেই ভিড় করছেন।

বাঁকুড়া শহরের পুরানো রথতলায় এই সংস্থার শোরুমে ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ কিনতে আসা কলেজ পড়ুয়া আদৃতা রায়, বৈশালি পাত্র, রৌণক রায়রা বলেন, ‘‘কলেজে তো শিক্ষক দিবস পালন হবেই। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাদের টিউশনে আলাদা করে পালিত হবে শিক্ষক দিবস। বন্ধুদের কাছে খবর পেলাম এখানে এ বছর ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ পাওয়া যাচ্ছে। তাই আগে ভাগেই চলে এসেছি। শেষের দিকে যদি না পাওয়া যায়৷’’

শিক্ষক সৌমেন রক্ষিত বলেন, ‘‘অভিনব ভাবনা। পড়ুয়াদের কাছে এই বিশেষ দিনে কেক আলাদা গুরুত্ব পাবে। তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক যেভাবে অবনতি হচ্ছে তা কাঙ্খিত নয়। তবে শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব শুধু একটা বিশেষ দিনেই শেষ হয়ে যায় না, বছরের প্রত্যেকটা দিনই ছাত্র শিক্ষক উভয়কেই একথা স্মরণে রাখতে হবে।’’

কেক প্রস্তুতকারক সংস্থার কর্ণধার রীতা সিনহা বলেন, ‘‘গত বছর আমরা পরীক্ষামূলকভাবে ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ সরবরাহ করি। খুব ভালো সাড়া পাই। তাই এবছর আমাদের কাছে যথেষ্ট স্টক রয়েছে। অনেক ধরণের কেক আছে৷ তবে এবার বাটার কেক, ব্ল্যাক ফরেস্ট কেক, ক্রীম কেক, পাস্তা কেকের চাহিদা বেশী।’’

হঠাৎ ‘শিক্ষক দিবস’ এমন অভিনব উদ্যোগের কারন কি? জবাবে রীতা সিনহা বলেন, ‘‘মফ:স্বল শহরে এই ধরণের বিশেষ কেকের প্রচলন ছিল না। কিন্তু কলকাতায় এটা অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। গত বছর মনে হল, যুগ পাল্টেছে৷ এদিকে সময়ও এগিয়েছে৷ এখানেও ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ রাখা যেতেই পারে। তাই গত বছর সামান্য কিছু স্পেশ্যাল কেক রাখা হয়েছিল। ভালো সাড়া মিলেছিল। তাই এবারর বিপুল পরিমাণে এই কেক রাখা হয়েছে।’’

শুধু বাঁকুড়া শহরই নয়, ‘টিচার্স ডে স্পেশ্যাল কেক’ বিকোচ্ছে সারেঙ্গা, পাঁচমুড়া, বিবড়দা সহ জেলার বেশ কয়েকটি এলাকায়৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।