প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: চৈত্র সেল। বাঙালির তেরো পার্বণের অন্যতম পার্বণ। এই চৈত্র মাসেই বছরের প্রথম বিক্রিবাটার মুখ দেখেন ব্যবসায়ীরা। তবে এ বছরের ছবিটা একদম অচেনা। করোনা ভাইরাসের আঘাতে এবার শয্যাশায়ী বাঙালির সাধের চৈত্র সেল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের।

করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে জারি ২১ দিনের লকডাউন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব কিছুই বন্ধ রাখা হয়েছে। বাজার বলতে খোলা শুধু সবজি, মাছ, মাংস ও ফলের দোকান। বন্ধ রাখা হয়েছে বাকি সব কিছু। এই পরিস্থিতির মুখে চরম মার খেলো গড়িয়াহাট, নিউমার্কেট ও হাতিবাগানের পোশাক বিক্রেতারা। বিশেষ করে ফুটপাথে বসা হকাররা। প্রতি বছর ধাক্কাধাক্কি করে যেখানে সেলের বাজারে জিনিস কিনতে হয়, সেখানে একেবারে ফাঁকা এই জায়গাগুলো মনে হচ্ছে যেন ছুটির দিন।

বস্ত্র ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এবারের লক ডাউন কার্যত তাঁদের কোমর ভেঙে দিল। এর ধাক্কা তাঁরা কবে কাটিয়ে উঠতে পারবেন তা তাঁরা নিজেরাই জানেন না। কার্যতই এতে হতাশ তাঁরা।

হাতিবাগানের এক ব্যবসায়ী বললেন, “আমাদের মতো ছোটো ব্যবসায়ীদের কাছে এই আয় তো শুধু এই কয়েকদিনের নয় বহু মাসের রোজগার। সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেল। এই টাকা তুলতে আমাদের কতো বছর যে লেগে যাবে বলতে পারব না। পরিবারকে কি খাওয়াব বুঝতে পারছিনা।”

কলকাতার গড়িয়াহাট, গড়িয়া, কালীঘাট এলাকায় বড় ব্যবসার পাশাপাশি ছোট-বড় রাস্তার দু’ধারে চলে চৈত্র সেল। সেই সব রাস্তা এখন খাঁ খাঁ করছে। গড়িয়াহাটের একটি বস্ত্র প্রতিষ্ঠানের মালিকের কথায়, ‘‘সেলের জন্য মজুত এত টাকার জামাকাপড়, শাড়ি দিয়ে এখন কী করব সেটাই বুঝতে পারছি না। ৬০ বছরের এই ব্যবসায় এরকম পয়লা বৈশাখ আগে কখনও দেখিনি।’’

তবে এই সময় রোজ দোকান খুলবেন নাকি নিজেরাও সুস্থ থাকার জন্য কয়েকদিন ছুটি নেবেন তা নিয়েও দ্বিধাবিভক্ত বিক্রেতারা। শ্যামবাজার এক হোসিয়ারী ব্যবসায়ী বললেন, “বিদেশ থেকে আসা প্লেন গুলো আগে থেকেই বন্ধ করে দিলে আজ আমাদের এই দিন দেখতে হতো না।” কবে আবার পরিস্থিতি আগের মত হয়, এখন সেই অপেক্ষাতেই ব্যবসায়ীরা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV