কলকাতা: ‘সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই বলছে দেশদ্রোহী, ‘আজাদি’ চাইলেই কেউ দেশদ্রোহী হয়ে যায় না’, বৃহস্পতিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে নিশানা করে এমনই মন্তব্য করলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে সরব কেন্দ্র-বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল। সিএএ ও এনআরসির বিরোধিতা করছে বামেরাও। কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে উঠছে ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টার অভিযোগ। বৃহস্পতিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনে তাঁর মূর্তিতে মালা দেন বাম নেতারা। কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপিকে তুলোধনা করলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম।

বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারকে দুষে সেলিমের কটাক্ষ, ‘দেশপ্রেমের নামে ধর্মীয় বিভাজনকারী সস্তার ভাবনা বিলি করা হচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের বলা তথ্যের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের মিল নেই।’ এরই পাশাপাশি এদিন আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও মন্তব্য করেন সেলিম। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে আজাদ হিন্দ ফৌজ তৈরি হয়নি। সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন আজাদ হিন্দ ফৌজে সর্বধর্মের সমন্বয়ের ভাবনা রয়েছে। সব ধর্মের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে আজাদ হিন্দ ফৌজে।’

বিজেপিকে নিশানা করে সেলিম আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ জমানার গদ্দাররা আজাদি শব্দের মানে বোঝে না। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলা মানেই দেশদ্রোহীতা নয়। শোষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার নাম আজাদি।’ এই প্রসঙ্গে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনেছেন সেলিম। তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে জেএনইউ ক্যাম্পাসে কেন্দ্রের শোষণের রাজনীতির প্রতিবাদ চলছিল। সেখানেও ‘আজাদি’ স্লোগান উঠেছিল। সেই স্লোগানও দেশদ্রোহীতার পরিচয় দেয় না।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনীতিতে বেশ খানিকটা ব্যাকফুটে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে একের পর এক আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধী নেতারা। এর আগেও একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তোলা সেলিম আবারও সরব কেন্দ্র বিরোধিতায়।