স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গোটারাজ্যে যখন প্রবল বিক্ষোভে উত্তাল, তখন প্রধানমন্ত্রীর মোদীর সঙ্গে রাজভবনে একান্তে সাক্ষাত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই বৈঠককেই তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা মহম্মদ সেলিম৷ তিনি বললেন, ক্যা-ক্যা ছি-ছি নয়। ওটা আসলে কাছাকাছি ।

সম্প্রতি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন,২০১৯ -এর প্রতিবাদে ‘ক্যা-ক্যা ছি-ছি’ স্লোগান দেন মুখ্যমন্ত্রী। CAA-র প্রতিবাদেও প্রথম থেকেই মুখ খুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সফরে মমতা-মোদি একমঞ্চে আসায় কটাক্ষের সুর বিরোধী শিবিরের মুখে।

দেশে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ( CAA), এনআরসি, এনপিআর বিরোধী আন্দোলনে একেবারে প্রথম সারির মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিএএ পাশ হওয়ার পর এই প্রথম কলকাতায় এলেন নরেন্দ্র মোদী। ঘটনাচক্রে তিনি এ শহরে আসার আগের দিনই নতুন নাগরিকত্ব আইন বিজ্ঞপ্তি জারি করে লাগু হয়েছে সরকারি ভাবে।

উল্লেখ্য, এই ইস্যুতে বিরোধী শক্তিগুলিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে একজোট হওয়ারও ডাক দিয়েছিলেন মমতা। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছিলেন বেশ কিছু নেতা। সোনিয়া গান্ধি বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে বৈঠকেও ডাকেন ১৩ জানুয়ারি। প্রথমে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে জানালেও পরে ওই বৈঠকে থাকবেন না বলে জানিয়ে দেন মমতা। CAA বিরোধী আন্দোলনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই দ্বিচারিতাকে আদতে ‘মোদী সখ্যতা’ হিসেবেই দেখছে বিরোধী শিবির।

মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে মহম্মদ সেলিম বলেন, “উনি বলেন এক, করেন আরেক। একটা কথা বলে দিল্লি যান, গিয়ে অন্য কথা বলেন। এর আগে যখন এনআরসি নিয়ে রাজ্যে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠেছে, আত্মহত্যা করছে, তখন উনি দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বললেন, এনআরসি নিয়ে কোনো কথা হয়নি, ওটা তো আসামের ব্যাপার। পরের দিন অমিত শাহ্‌র সঙ্গে দেখা করে রাজীব কুমার যাতে ধরা না পড়ে তার ব্যবস্থা করলেন। আইপিএস থেকে আইএএস ক্যাডারে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন নিয়ে এলেন। ওই জন্যই সেবার দিল্লি গিয়েছিলেন। এটা এখন সবার কাছে স্পষ্ট।”

রাজ্যের বকেয়া পাওনা চাওয়া প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম বলেন, “আমিও মন্ত্রী, এমপি, এমএলএ ছিলাম। তিন দশক ধরে ছিলাম, নিয়মকানুন জানি। উভয়পক্ষের অর্থমন্ত্রী বা অর্থ দফতরের সচিব ছাড়া কিভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উনি একথা বললেন? তাঁদের ছাড়া অর্থ সংক্রান্ত কোনো বৈঠক হয় না। সেলিম বলেন, সারা রাজ্য যখন মোদী বিরোধিতায় সরব হয়ে উঠেছে, তখন উনি একান্ত আলোচনার নামে রাজভবনে মুখ লুকোতে গিয়েছিলেন। তাও জাহাজ প্রতিমন্ত্রীকে বলে সময় চেয়েছেন। আসলে উনি বলতে গিয়েছিলেন, আমি ভুল করে বলে ফেলেছি, ‘ক্যা ক্যা ছি ছি’, ওটা হবে কাছাকাছি!”