স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম৷ পীযূষ গোয়েল ও রাহুল সিনহাদের পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বললেন, দেশের অর্থনীতি নিয়ে যাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে এটাই প্রত্যাশিত।

নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদকে নিশানা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “আমি নোবেল জয়ের জন্য অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু আপনারা তো সবাই জানেন যে ওঁর চিন্তাভাবনা সম্পূর্ণই বামপন্থী মতাদর্শের। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের ‘ন্যায়’ প্রকল্পের অনেক গুণগান করেছিলেন। সেই ভাবনা পরবর্তীকালে ভারতের জনগণই খারিজ করে দিয়েছেন।”এক সংবাদমাধ্যমে নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বঙ্গ বিজেপি নেতা বলেন, ‘‘যাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি হন, মূলত তাঁরাই নোবেল পাচ্ছেন। নোবেল পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা ডিগ্রি কিনা জানি না’’। উল্লেখ্য, অর্থনীতিতে এবার অভিজিতের সঙ্গে নোবেল পেয়েছেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এস্থার ডাফলো।

মহম্মদ সেলিমের কথায়,”দেশের অর্থনীতি সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। দেশজুড়ে যারা জাতিবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, তারা নোবেল জয়ী কৃতীর সম্পর্কে এরকম কুরুচিকর মন্তব্য করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।” সিপিআই (এমএল) লিবারেশন বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, রাহুল সিনহার মন্তব্য নারীবিদ্বেষী। শালীনতার সীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন। যে ভাষায় পীযূষ গোয়েল অভিজিতবাবুর চিন্তাভাবনা নস্যাত্ করেছেন, তা হাসির উদ্রেক করে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে নিন্দা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতাদের ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

এদিন পীযূষ গোয়েলের কটাক্ষের জবাব দিয়েছেন অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক৷ তিনি বলেন, ন্যায় প্রকল্প তৈরির সময় কংগ্রেস তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তিনি বলেছিলেন, কোন খাতে কত বরাদ্দ করা উচিত। এরপরই বলেন, শুধু কংরেস নয়, বিজেপি যদি তাঁর কাছে পরামর্শ চায়, তিনি সহযোগিতা করবেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে দেশের অবস্থান তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পাবে। একই সঙ্গে তিনি যে এ ব্যাপারে পেশাদার তাও নির্দিষ্ট করে বলেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক।

উল্লেখ্য, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে ন্যূনতম আয় যোজনা বা ন্যায়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কংগ্রেস। দারিদ্র সীমার নীচে থাকা মানুষকে মাসে ৬ হাজার থাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল রাহুল গান্ধী। ওই প্রকল্পটির বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। দেশের রাজকোষে টান পড়বে বলে পাল্টা প্রচার করে তারা। ন্যায় প্রকল্পে ইভিএমে লাভবান হয়নি কংগ্রেস। মেলেনি সুফলও। কিন্তু ওই প্রকল্পটি দেশের দারিদ্র দূরীকরণে সফল হতে পারে বলে মনে করেছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। নোবেল জয়ের পর অভিজিৎকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, ”ভারতের আর্থিক উন্নয়নে ও দারিদ্র দূর করতে ন্যায় প্রকল্পের রূপরেখা তৈরিতে সাহায্য করেছিলেন অভিজিৎ। তার বদলে এখন চলছে মোদীনীতি। যা দেশের অর্থনীতিতে ধ্বংস করছে। বাড়ছে দারিদ্র।”