বোরখায় ঢাকা মুখ, হাতে বন্দুক। বছর দুয়েক আগে মুক্তি পায় ‘রাজি।’ আলিয়া ভাট অভিনীত সেই ছবি থেকে অনেকেই জেনেছেন সেই মহিলা গুপ্তচরের গল্প। কে এই ‘রাজি’? কি তার পরিচয়? জানেন, আসলে এক কাশ্মীরি মেয়ের গল্পই ‘রাজি’। বাস্তবের কাশ্মীরি মেয়ে সেহমত, আসলে রূপোলি পর্দার ‘রাজি’।

ভারতের যুদ্ধের ইতিহাস ঘাঁটলে উঠ আসবে অনেক অজানা নাম। যারা খুব পরিচিত না হলেও দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তেমনই একজন কাশ্মীরের এই সেহমত। আবেগের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশকেই আগে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। প্রাণের মায়া ত্যাগ করে দেশের জন্য কাজ করেছিলেন কাশ্মীরের এই গুপ্তচর।

ভারত-পাক যুদ্ধের সময় এক পাকিস্তানি আর্মি অফিসারকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এরপর একটু একটু করে পাক সেনার অন্দরমহলে পৌঁছতে শুরু করেন তিনি। পেতে থাকেন নানা গোপন তথ্য। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ছক জেনে গিয়েছিলেন তিনি। তাদের অবস্থান, তাদের গতিবিধি এমনকি ভারতের উপর হামলার ব্লু-প্রিন্ট ফাঁস করে দিয়েছিলেন সেহমত। এই এই তথ্যের জন্যই প্রচুর ভারতীয়ের প্রাণ বেঁচে গিয়েছিল। সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গা থেকে পাল্টা আঘাত হানতে পেরেছিল ভারতীয় সেনা।

বছর কয়েক আগে এই ভারতীয় গুপ্তচরকে নিয়ে “Calling Sehmat” নামে একটি বই লেখেন হরিন্দর এস সিক্কা। সেখানেই তাঁর সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য পাওয়া যায়। নিজের সংস্কৃতি কিংবা সমাজের রক্তচক্ষুকে তোয়াক্কা করেননি সেহমত। পরে নিজের বাংলোতে আল্লা, যীশুখ্রিস্ট ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য আলাদা আলাদা পুজোর ঘর তৈরি করে নিরপেক্ষতার নজির গড়েছিলেন তিনি বলতেন, ‘ধর্ম কিছুই নয়, বিশ্বাস আর কর্মটাই আসল।’