বনগাঁ : বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় প্রচারে এসে ভিড় সভাতে দেখে কিছুটা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার জন্য এই আশঙ্কা প্রকাশ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা-মিছিল করছেন । প্রাণের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সেখানে জড়ো হচ্ছেন বহু মানুষ। রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বনগাঁর তেমনি একটি সভা থেকে ভিড় দেখে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেন। রবিবার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের এই সভাতে ভিড় ছিল নজরে পড়ার মতো। আর তা দেখেই করোনার কথা ভেবে সংশয় প্রকাশ করলেন যুব তৃণমূল সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে এত জমায়েত দেখে আনন্দের পরিবর্তে খারাপ লাগছে।”

প্রশ্ন উঠছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নিয়ে। কেননা সিপিএম আগেই বলে দিয়েছে করোনা সংক্রমিন বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তারা বড় সভা এবং রোড শো করবে না। তাহলে তৃণমূল কেন এখনও সভা, রোড শো করে যাচ্ছে? যেখানে রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। নিয়মিত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাস্ক, স্যানিটাইজারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দূরত্ব পালন হচ্ছে না বিভিন্ন সভায়। কিন্তু ভোটের আবহে জয়ামেত কিছুতেই থামাচ্ছেন না রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীরা। যে কোনও রাজনৈতিক সভাতেই উপচে পড়ছে ভিড়। শনিবার নরেন্দ্র মোদীর সভায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছিল। ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “খুব ভাল লাগছে।” কিন্তু তিনি তাঁর সভায় উপস্থিত কাউকে একবারের জন্য মাস্ক পড়তে বলেননি। রবিবার নরেন্দ্র মোদীর এই মন্তব্যেরই নিন্দা করলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “করোনা নিয়ে আমরা চিন্তিত। জনসভায় এত লোক দেখে আমার খারাপ লাগছে। কারণ এই পরিস্থিতিতে ভিড় দেখে ভাল লাগা সম্ভব নয়। অথচ দেখুন জনসভায় ভিড় দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলছেন, তাঁর নাকি খুব ভাল লাগছে। বাংলার মানুষ এই প্রধানমন্ত্রীকে চাইবেন? কখনই না।” প্রশ্ন উঠছে, নরেন্দ্র মোদীকে পাল্টা দেওয়ার জন্যই কী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভিড় দেখে বললেন এই জমায়েত দেখে আনন্দের পরিবর্তে খারাপ লাগছে!

রবিবার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল রায়ের সমর্থনে এই নির্বাচনী জনসভা থেকে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য সরাসরি দিল্লির বিজেপি নেতাদের দায়ী করেন অভিষেক বমন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথে হেঁটেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দিল্লি থেকে বহিরাগত নেতারা রাজ্যে আসছেন। তাঁরাই রাজ্যে করোনা ছড়াচ্ছেন। করোনার বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছিলাম, শেষ তিন দফার ভোট একদিনে করা হোক। কিন্তু বিজেপি সেটা চায়নি। বিজেপির নেতারা চাইছেন, তাঁরা দিল্লি থেকে রাজ্যে আসবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগাল করবেন। যেন তেন প্রকারেণ তাঁরা বাংলা দখল করবেন। তাঁদের বড় বড় জনসভা হবে। তাতে যে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। সে ব্যাপারে বিজেপি নেতাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.