শ্রীনগর: কাশ্মীর নিয়ে জিরো টেরর পলিসির কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ বলেছিলেন জম্মু কাশ্মীরে আর কোনও ধরণের সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না৷ তারপরেই ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হল এক তালিকা৷ যে তালিকায় রয়েছে কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করা ১০ মোস্ট ওয়ান্টেড টেররিস্টের নাম৷

তালিকার শীর্ষে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি গোষ্ঠীর অন্যতম মাথা ও উপত্যকায় হিজবুলের প্রধান রিয়াজ আহমেদ নাইকুর নাম৷ নাইকু ২০১০ সাল থেকে হিজবুলের সঙ্গে যুক্ত৷ কাশ্মীরে একাধিক নাশকতার সঙ্গে সে জড়িত বলে অভিযোগ৷ এই নামগুলি প্রকাশ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও সংগঠিত করতে চাইছে ভারতীয় সেনা বলেই খবর৷

আরও পড়ুন : ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য প্রকল্প রূপায়ণ করতে মমতাকে চিঠি দিচ্ছেন হর্ষবর্ষন

তালিকায় রয়েছে শ্রীনগরের বাসিন্দা মহম্মদ আশরাখ খান, বারামুল্লার মেহেরাজদুদ্দিন, শ্রীনগরের ড: সাইফুল্লা, কুপওয়াড়ার আজাজ আহমেদ ও আরশিয়াদ উল হকের নাম৷ এরা প্রত্যেকেই হিজবুল মুজাহিদিনের অন্যতম সক্রিয় সদস্য বলে ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর৷

এছাড়াও নাম রয়েছে লস্কর ই তৈবার ওয়াসিম আহমেদ ওরফে ওসামার৷ যে সোপিয়ান থেকে বিভিন্ন নাশকতা মূলক কাজকর্ম চালায়৷ জইশ ই মহম্মদের হাফিজ উমর ও জাহিদ শেখের নাম রয়েছে ওই তালিকায়৷ অল বদর জঙ্গি জাভেদ আহমেদ মাট্টু জায়গা পেয়েছে তালিকায়৷

নর্দার্ন কমাণ্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রণবীর সিং জানান, এখনও পর্যন্ত এই বছরে ৮৬ জন জঙ্গিকে নিকেশ করা সম্ভব হয়েছে৷ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেছে ভারতীয় সেনা৷ কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে জেনারেল সিং বলেন আটক হওয়া জঙ্গিদের জীবনের মূল স্রোতে ফেরানোর কাজ করছে সেনা৷ যা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং৷

আরও পড়ুন : মহিলা নিরাপত্তায় ‘স্যান্ডাল ড্রোন’ তৈরি করে নজির সৃষ্টি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াদের

এর আগে, গোয়েন্দা দফতর জানিয়েছিল দেশের সীমান্ত বরাবর মাথচাড়া দিয়ে উঠেছে ১৬ টি জঙ্গি ঘাঁটি। কাশ্মীর উপত্যকায় মাটি শক্ত করতেই সীমান্ত এলাকায় চোরা-গোপ্তা অনুপ্রবেশ চালাচ্ছে তারা। সূত্র জানায়, পুলওয়ামা কাণ্ডের পর জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে জঙ্গি শিবির নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সেনা-জওয়ানরা। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ রুখতে অভিযান চালান হচ্ছে।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু মাস ধরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর মাথা চারা দিয়ে উঠছে ১৬ টি জঙ্গি গোষ্ঠী, এমনটাই বলছে গোয়েন্দা তথ্য। অনুপ্রবেশকে আরও বেশি মাত্রায় জায়গা করে দিতে এই সমস্ত জঙ্গি গোষ্ঠীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে৷ তারপরেই জঙ্গি দমন অভিযান আরও সংঘবদ্ধ করতে জঙ্গি তালিকা প্রকাশ করে সেনা৷ তাঁরা জানায়, পাক সেনা এবং আইএসআইয়ের সমস্ত কার্যকলাপের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে৷