স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: বছর চারেক আগে উত্তর দিনাজপুরের কর্ণজোড়ার বাসিন্দা অপর্ণার বিয়ে হয় মোহনাবাজার পাড়ার বাসিন্দা পেশায় কম্পিউটার অপারেটর পংকজ মজুমদারের সাথে। বিয়ের পর থেকেই চলত অত্যাচার৷ মঙ্গলবার সকালে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাঁকে আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ৷ প্রতিবেশীদের অভিযোগ মারধোর করায় সে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। এলাকার মানুষ নিজেরাই তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। গৃহবধুকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেদের গ্রেফতার করে পুলিশ। মৃতার নাম অপর্ণা মজুমদার(২২)।

আরও পড়ুন : পুলিশের ‘ইনফরমার’ সন্দেহেই মাওবাদীরা খুন করেছে ৫২২ জনকে

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ থানার মোহনার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষই মৃতার শ্বশুর বাড়ির লোকেদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন৷ দোকান ও ঘরে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয় র‍্যাফ। ঘটনাস্থলে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে খবর, কুমারগঞ্জেরই মতিজাপুর এলাকার এক মহিলার সাথে আগে একবার পংকজ মজুমদারের বিয়ে হয়েছিল। প্রতিবেশিদের অভিযোগ বিয়ের পর থেকেই স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা প্রথমপক্ষের সেই বউকে মারধোর করায় সবকিছু ছেড়ে সে বাপের বাড়ি চলে যায়৷ দ্বিতীয়বার বিয়ে করা অপর্ণার উপরেও চলত অমানুষিক অত্যাচার। গত কয়েকদিন ধরেই সেই অত্যাচারের পরিমান বেড়ে গিয়েছিল বলেও প্রতিবেশিরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সোমবার রাতেও তাঁকে মারধরের চিৎকার শুনতে পেয়েছিলেন প্রতিবেশিরা। মঙ্গলবার সকালে অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে ভ্যানে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখে স্থানীয় ছুটে আসেন। জিজ্ঞেস করলে তাঁদের জানানো হয় যে সাধারণ অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : ভিন জাতের ছেলেকে বিয়ে, মেয়ে-জামাইয়ের গায়ে আগুন বাবার

অভিযোগ মারধরের কারণেই গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। গৃহবধুকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে এলাকার মানুষ শ্বশুর যুধিষ্ঠির মজুমদার, শাশুড়ি বিভা মজুমদার ও দেওর প্রহ্লাদ মজুমদার সহ স্বামীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

এদিকে জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন যে মৃতার বাপের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় বেলা ১১টা পর্যন্ত থানায় কোন লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি৷ পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ি সহ আটক মোট চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলেও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।