নয়াদিল্লি: পুরানো নোট বাতিল করে নতুন নোট চালুর পরেও ভারতবিরোধী শক্তির কার্যকলাপ যে ঠেকানো যাচ্ছে না, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০০০ টাকার জাল নোট ধরা পড়াতেই তার প্রমাণ মিলেছে৷ ধৃতদের জেরা করে ও অন্যান্য সূত্র মারফত খবর পেয়ে কেন্দ্রের রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (ডিপার্টমেন্ট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স, DRI) দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কন্টেনার ডিপোগুলিতে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে৷ এর মধ্যেই তারা কলকাতা সহ মুম্বই, চেন্নাইয়ের বন্দর লাগোয়া কন্টেনার ডিপোগুলিতে খানাতল্লাশি আরম্ভ করেছে৷ তাছাড়াও, উত্তরপ্রদেশের কানপুর এবং দিল্লির তুঘলকাবাদের ডিপোয় যত কন্টেনার রয়েছে, সেগুলিও তন্ন তন্ন করে দেখছে৷

গোপন সূত্র মারফত খবর পাওয়ার পরই তামিলনাড়ুর তিনটি বন্দর, এমনকী চেন্নাই বিমানবন্দরেও আমদানি হওয়া যাবতীয় মাল আটকে দেওয়া হয়েছে৷ ডিআরআই অভিযানের কারণে জাহাজে-আসা একটিও কন্টেনারও কলকাতা বন্দর থেকে ছাড়তে দেওয়া হয়নি৷

- Advertisement -

চেন্নাইয়ের শুল্ক দফতরের এক সিনিয়র অফিসার জানিয়েছেন,  গোয়েন্দা সূত্রে তাঁরা খবর পান— বাইরে থেকে সেখানে যত কন্টেনার পৌঁছেছে তার মধ্যে কোনও না কোনওটায় অন্তত ৪০০ কোটি টাকার জাল নোট রয়েছে৷ সেই কন্টেনার খোলার জন্যই ডিপার্টমেন্ট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সের গোয়েন্দারা সেখানে পৌঁছেছেন৷ এছাড়া মুম্বইয়ের শুল্ক দফতরের খবর, দিল্লির তুঘলকাবাদে যে অন্তর্দেশীয় কন্টেনার টার্মিনাল আছে সেখানকার কোনও কন্টেনারে চিনে নির্মিত বেশ কিছু একে-৪৭ থাকার কথা৷ যদিও এ ব্যাপারে মুম্বই কিংবা চেন্নাইয়ে ডিআরআইয়ের কোনও অফিসার মুখ খুলতে রাজি হননি৷

শুধু দিল্লিতে তাদের এক অফিসার এটুকুই বলেন, আমাদের কাছে খবর– কন্টেনার আসার রুটেই দেশের ভিতরে জাল নোট ঢুকতে চলেছে৷ তাঁর আশ্বাস, তল্লাশি অভিযান শেষ হলেই আটকে রাখা সব মালই ছেড়ে দেওয়া হবে৷

মুম্বইয়ের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রথমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের কাছে এ রকম একটা খবর এসে পৌঁছায়, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার জাল নোট এদেশে ঢোকানোর চেষ্টা চলছে৷ তার পরেই ডিআরআই এবং সিবিআই মিলে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ এখনও পর্যন্ত যা তথ্য মিলেছে সেই অনুসারে, আগের মতোই এইসব নোটের উৎস পাকিস্তান এবং ভায়া চেন্নাই, মুম্বই কিংবা তুঘলকাবাদ সেগুলি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে৷ ওই খবর আসার পরই কন্টেনার ডিপোগুলি থেকে যাবতীয় মাল ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ এতটুকু সময় নষ্ট না করে শুরু করা হয় তল্লাশি অভিযান৷ হঠাৎ করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে কি বিভিন্ন বন্দরে ডামাডোল হবে না? গোয়েন্দারা সেই ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেছেন৷ কিন্তু, তাঁদের মতে, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে এই ধরনের পদক্ষেপ বিনা উপায় ছিল না৷

এ ব্যাপারে শুল্ক দফতরের কাছে একটি নির্দিষ্ট গোয়েন্দা রিপোর্ট পৌঁছায় শুক্রবার সন্ধেবেলা৷ তারা জানতে পারে, জাল ২০০০ এবং ৫০০ টাকা ভরতি কোনও একটি কন্টেনার এর মধ্যেই চেন্নাইয়ের কোনও বন্দরে পৌঁছেছে৷ এটা জানার সঙ্গে সঙ্গে চেন্নাই বন্দরের পাশাপাশি এন্নোর ও কাট্টুপল্লি বন্দরে এসে নামা যাবতীয় কন্টেনার আর বেরতে দেওয়া হয়নি৷

এর পরই রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর গোটা দেশ জুড়ে সতর্কতা জারি করে৷ কলকাতা সহ উল্লেখিত শহরগুলি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি শহরকে এ ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়৷  ডিআইয়ের অনুমতি ছাড়া আমদানিকৃত মাল ছাড়তে বারণও করে দেওয়া হয়েছে৷ যদিও রফতানিতে কোনও রকম কড়াকড়ি বলবৎ হয়নি৷

বন্দরগুলিতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (CISF) পাহারা যাতে আরও বাড়ানো হয়, সে ব্যাপারেও আরজি জানিয়েছে শুল্ক দফতর৷