ওয়াশিংটন: মহাকাশ নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। বিভিন্ন সময়ে গবেষণা চলাকালীন উঠে আসে বিভিন্ন ধরণের তথ্য। সামনে আসে বহু আবিষ্কার। তেমনই এবার মঙ্গলে জলের চিহ্ন আবিষ্কার করল নাসা৷ গ্রহের দক্ষিণ দিকে এরিদানিয়ায় সমুদ্র থাকার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে৷ নাসার মার্সরেকনাইসেন্স অর্বিটার এই তথ্য দিয়েছে৷

এরিদানিয়ায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে সমুদ্র ছিল বলে মনে করা হচ্ছে৷ কারণ এখানে সমুদ্রের তলার হাইড্রোথার্মাল অ্যাক্টিভিটির নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা৷ শুধু তাই নয়, গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, জল গরম হয়ে বাস্পীভূত হয়ে এই জায়গার সৃষ্টি হয়েছে৷ যদিও এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন বিশ্বের মহাকাশ গবেষণার পীঠস্থান নাসা।

নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের পল নাইলস জানিয়েছেন, জায়গাটি সেখানে সমুদ্র থাকার প্রমাণ দিচ্ছে৷ পৃথিবীতে যেমন সমুদ্রের গভীরে জলবিদ্যুৎ শক্তি আছে, তেমনই এখানেও পাওয়া গিয়েছে৷ প্রাণ থাকার উপযুক্ত পরিবেশও এখানে আছে৷ জীবনে জন্য কোনও অসাধারণ আবহাওয়া দরকার হয় না৷ শুধু মাটি, তাপ ও জল হলেই চলে৷ মঙ্গলের ওই অঞ্চলে তার প্রতিটি উপাদানই পাওয়া গিয়েছে৷

গবেষকরা এও জানিয়েছেন, এরিদানিয়ায় যে জলের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, তা নেহাত কম নয়৷ প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার জুড়ে সমুদ্র থাকার প্রমাণ মিলেছে৷ ধাতব মিশ্রণও এখানে পাওয়া গিয়েছে৷ অভ্র ও কার্বোনেটের প্রমাণ মিলেছে৷ সেগুলো যেভাবে ছড়িয়ে আছে, তাতে জল থাকার সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷

এমনকি গবেষণায় এলাকায় লাভার চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে৷ লাভার প্রমাণ পাওয়ার পর এটুকু স্পষ্ট যে এখানে আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব ছিল৷ নাইলস জানিয়েছেন, মঙ্গলে নতুন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিকাল টার্গেটের প্রমাণ দিল এরিদানিয়া৷

এরিদানিয়ায় পাওয়া এই সব প্রমাণ শুধু মঙ্গলের ক্ষেত্রে নয়, পৃথিবীর ক্ষেত্রেও একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছে৷ পৃথিবীতে জীবন কীভাবে এল সেদিকেও একটা নতুন দিশা দেখাতে পারে মঙ্গল৷