coronavirus_death

নয়াদিল্লি : দিল্লিতে করোনা পরিস্থিতি এখনও সংকটপূর্ণ। শেষ ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৬০ জন। যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ৭৭ হাজারে। এই পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করতে আজ থেকেই অর্থাৎ শনিবার থেকেই প্রতিটি বাড়িতে স্ক্রিনিংয়ের কাজ শুরু করতে চলেছে দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার।

নতুন নির্দেশিকায় দিল্লি সরকার জানিয়েছিল জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে দিল্লির কনটেনমেন্ট জোনগুলির প্রতিটি বাড়িতে স্ক্রিনিংয়ের কাজ শেষ করা হবে। এর ফল জানা যাবে ১০ই জুলাইয়ের মধ্যে। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন ১১০০টি দল। প্রতিটি দলে দুজন করে সদস্য রয়েছেন। এঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে স্ক্রিনিংয়ের কাজ করছেন বলে খবর।

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া তথ্যে দিল্লি সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন প্রতিটি জেলায় ১০০টি টিম তৈরি করা হয়েছে। আশা কর্মী ও অক্সিলিয়ারি নার্সদের এই কাজে সহায়তা করার অনুরোধ করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদম সুমারি বলছে দিল্লিতে এই মুহুর্তে ৩৪.৩৫ লক্ষ বাড়ি রয়েছে।

এর মধ্যে ৩৩.৫৬ লক্ষ শহরে ও ৭৯,৫৭৪টি বাড়ি রয়েছে গ্রামীণ এলাকায়। বাড়ি বাড়ি ঘুরে এই কর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনও ব্যক্তির ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনার কোনও লক্ষ্ণণ রয়েছে কীনা, খতিয়ে দেখা হবে। নাম, ঠিকানা, বয়স নথিভুক্ত করা হবে। বিশেষ করে সবাই আরোগ্য সেতু অ্যাপ ব্যবহার করছেন কীনা, তা দেখা হবে।

এই তথ্য তুলে ধরা হবে রাজ্য সরকার নির্দেশিত বিশেষ ওয়েব পোর্টালে। দিল্লিতে বর্তমানে ২৬১টি কনটেনমেন্ট জোন রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। করোনা ঠেকাতে যে টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে, তাঁরা মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন। ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনও করোনা আক্রান্তকে পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা ও এলাকা স্যানিটাইজ করা।

সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের পরবর্তী ৫-১০দিনের মধ্যে করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করা। সমীক্ষা বা সার্ভে করে প্রতিদিন ২০ হাজার নমুনা সংগ্রহ করা। জিঞ্জার হোটেল ও টিউলিপ হোটেলকে কোভিড কেয়ার সেন্টারে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে থাকতে পারবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানে তাঁরা বিশ্রাম নিতে পারবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে কোনওভাবেই অসুস্থ না হয়ে পড়েন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রত্যেকের মোবাইলে আরোগ্য সেতু অ্যাপ ইনস্টল করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে। এই জোনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা মোতায়েন করে বাসিন্দাদের যাতায়াতে কড়াকড়ি করতে চাইছে সরকার।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।