ঢাকা: জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন অবসানের পর দেশে ইসলামি সংগঠনগুলির উত্তেজক মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছিল বাংলাদেশ সরকার। বলা হয়েছিল, এটি ভারতের নিজস্ব বিষয়। এবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর শেষ হতেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিল শেখ হাসিনার সরকার।

বুধবার বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মনে করে যে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নীতিগত অবস্থান থেকে বাংলাদেশ সবসময় প্রচার করে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নয়ন সব দেশের জন্যই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

কাশ্মীরে অচলাবস্থা চলছে, এই বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ইসলামি সংগঠনগুলি বারবার জমায়েত করেছে। ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে মিছিলও করেছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এই মিছিল ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়ায় ঢাকায়।

তারপরেই বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, দেশের অভ্যন্তরে কোনওরকম ভারত বিরোধী মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন(ব়্যাব)। তাদের তরফেও ইসলামি সংগঠনগুলিতে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।

এরই মাঝে দিল্লি সফর করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনিও কাশ্মীর ইস্যুটিকে ভারতের নিজের বিষয় বলে জানান। আরও বলেন, এই দিকে গভীর লক্ষ্য রাখছে বাংলাদেশ সরকার।

এরপর সোমবার ঢাকা সফরে আসেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনদিনের সফরে, বুধবার তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ বিদেশমন্ত্রকের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। তারপরেই বাংলাদেশের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কাশ্মীর ইস্যুটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বলে জানানো হল।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে দেখা করেন এস জয়শঙ্কর। সেই সাক্ষাতে আগামী অক্টোবরে হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে যাওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চিঠি তুলে দেওয়া হয়। বুধবার সফর শেষে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন এস জয়শঙ্কর।