স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যায় পাড়ার চায়ের দোকানে কয়েকজন বন্ধু মিলে আড্ডা৷ আর ওই আড্ডায় একদিন উঠে আসে পাড়ার দু:স্থ মানুষের কথা৷ পাল্টে যায় আড্ডার বিষয়৷ ভাবনা শুরু, কিভাবে তাদের পাশে দাঁড়ানো যায়৷ শেষে কয়েকজন বন্ধু মিলে তৈরি হল একটি গ্রুপ৷ নাম দেওয়া হল SCOPE,বয়স কয়েক মাস৷ তার মধ্যেই তারা সাড়া ফেলে দিয়েছেন৷ অফিস বলতে পাড়ার চায়ের দোকানের ওই আড্ডাস্থল৷ অস্থায়ী ঠিকানা দমদম ক্যান্টনমেন্ট সুভাষ নগরের নতুন বাজার৷

উদ্যোক্তাদের মধ্যে সোমনাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রথমে কয়েক বন্ধু এই কাজে সামিল হলেছিলেন৷ বর্তমানে সেই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০জন৷ নিজেদের বেতন থেকে মাসে মাসে কিছু টাকা জমিয়ে, সেই টাকায় বই খাতা, চাল ডাল, শীতের পোশাক কিনে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি দু:স্থ মানুষের কাছে৷ তবে অন্যান্য স্বেচ্ছা সেবক দলের থেকে আমাদের কাজটা আলাদা৷ আমরা কোনও এনজিও নই৷ নিজেদের আয়ের কিছু টাকা বাঁচিয়ে তা থেকেই চলছে সমাজসেবা৷ কাজের ফাঁকে অসহায় মানুষের খোঁজে বেরিয়ে পড়া৷ তাদের পাশে দাঁড়ানো৷

তিনি আরও জানান,সম্প্রতি বাগুইআটি একটি বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে গিয়েছিলাম আমরা৷ তাদের হাতে তুলে দিতে পেরেছি শীতের পোশাক,খাবার, রেডিও ও অন্যান্য গিফট৷ এছাড়া আয়োজন করা হয়েছিল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের৷ সেখানে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা নাচ গানে মেতে উঠেছিলেন৷ প্রবীণ মানুষগুলির মনের ভার লাঘব করতেই এই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন৷ গল্প আড্ডায় তাদের সুখ দুখের কথা ভাগ করে নিতে পেরে আমরাও খুশি৷ এটা আমাদের কাছে এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা৷

এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। অসহায় বয়স্ক মানুষের বাড়িতে নিয়ম করে রেশন পৌঁছে দেওয়া৷ দুস্থ শিশুদের নতুন জামা দেওয়া৷ যখন দেখি নতুন জামা পেয়ে ঝলমলে হয়ে ওঠে কচি মুখগুলো, সেটাই আমাদের বড় পাওয়া৷ কারণ আমরা ওদের মুখে হাসি ফোটাতে চাই৷

এছাড়া দু:স্থ ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনার সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য করা৷ এবং অন্যান্য সামাজিক কাজে নিস্বার্থভাবে নিজেদের নিয়োজিত করাই স্কোপের মূল উদ্দেশ্য৷

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।