সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: এ যেন একটা চক্র সম্পূর্ণ হল। ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়ার জন্মদিনে রাজনৈতিক কেরিয়ারে তাঁর নবজন্মের ভাবনায় যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টিতে। আর এর সঙ্গেই সিন্ধিয়া পরিবারে ফিরে এল গেরুয়া যোগ। যে ঘটনার জেরে বাবা মাধবরাওকে কার্যত রাজ পরিবারে ত্যাজ্য পুত্র গোছের করে দিয়েছিল সেই ‘শাপ’ থেকে যেন বেরিয়ে এলেন জ্যোতিরাদিত্য।

ঘটনা হল মহারাজা মাধবরাও সিন্ধিয়া বেঁচে থাকলে আজ তাঁর আজ ৭৫ বছর বয়স হত। সেই মাধবরাও যখন প্রথম রাজনীতিতে এলেন তখন তিনি লড়ছিলেন ‘জন সংঘ’-এর টিকিটে। লড়েছিলেন গুনা থেকে। তখন মহারাজা মাধবরাওয়ের বয়স ২৬। যে দল থেকে তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে অভিষেক হয়েছিল পরে সেই দলকেই তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ১৯৭৭-এর নির্বাচনে অবশ্য নির্দল হিসাবে গুনা থেকে লড়েছিলেন মাধবরাও। কোনও বড় চিহ্ন ছাড়াই মধ্যপ্রদেশের এই আসন থেকে জিতেছিলেন তিনি।

পরের বারে তাঁকে আর এমন একা একা লড়তে হয়নি। ১৯৮০ সালে কংগ্রেস তাঁকে নির্বাচনে জিততে সাহায্য করে। ১৯৮৪-এর নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে গুমা থেকে চতুর্থবারের জন্য জয়ী হন মাধবরাও সিন্ধিয়া। যে পার্টির সঙ্গে তাঁর পরিবারের এত সখ্যতা সেই পরিবারের ছেলেই না কি অন্য পার্টিতে যোগ দিল ? তাও আবার কংগ্রেসের টিকিটে কাকে হারালেন মাধবরাও সিন্ধিয়া? অটলবিহারি বাজপেয়ীকে। এমন ঘটনায় স্বভাবতই খুশি ছিলেন না রাজমাতা শ্রীমন্ত বিজয়রাজেজী। তাঁকে নিজের শ্রাদ্ধাধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।

আজ তাঁর নাতি শ্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার হাত ধরে এত বছর পরে মা আর ছেলের মধ্যে আবার একটা যোগসূত্র তৈরি করে দিল। বাবার জন্মদিনে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসছেন, যেন আনন্দসংবাদ। প্রসঙ্গত দুই পিসি শ্রীমতি যশোধরারাজে এবং শ্রীমতি বসুন্ধরা রাজে বিজেপিতেই রয়েছেন। গেরুয়া যোগ তো তাদের নতুন কিছু নয়। ইতিহাস বলছে হাতের সঙ্গে হাত মেলালেই সিন্ধিয়া পরিবারে যেন বড় বেমানান দেখায়। মানানসই করেছিলেন মাধবরাও আর তাঁর ‘সাফ সুতরা’ রাজনৈতিক কেরিয়ার, যা সহজে দেখা যায় না।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জ্যোতিরাদিত্য যোগ দিয়ে দিয়েছেন বিজেপিতে। তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরও ২০ জন মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক। খবর এমনও মিলছে জ্যোতিরাদিত্যের ঘর ওয়াপসি-তে বড় ভূমিকা রয়েছে পিসি বসুন্ধরার। তবে এমন কিছু যে হতে পারে তার আঁচ অনেক আগেই পাওয়া গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকার গড়ার পর রাহুল গান্ধী বারবার চেয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে। কমলনাথ এমন বেঁকে বসেন যে শেষ পর্যন্ত তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করতে হয়। পরে রাহুল নিজেও কংগ্রেসের লোকসভায় ভরাডুবির পর দলের দায়িত্ব ত্যাগ করেন। তিনি ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন তাঁর দলের দায়িত্ব ছাড়ার অন্যতম কারণ ছিলেন কমলনাথের মতো কিছু নেতা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব