ওয়াশিংটন : পৃথিবীর বুকে প্রাণীদের জীবনধারণের বিষয় নিয়ে আলোচনায় সবার আগেই আসে ডাইনোসর এবং তাদের বিবর্তন। একাধিক বিজ্ঞানীদের তরফে ডাইনোসর এবং তাদের জীবন ধারণ নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে একাধিকবার। প্রতিবার উঠে এসেছে প্রথিবীর বুকে আদিম সময়ে জীবন ধারণ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য। যা খুলে দিয়েছে নয়া দিক। সম্প্রতি ফের এই ডাইনোসর নিয়ে সামনে এল এক নয়া তথ্য।

আজ থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগেও পৃথিবীর বুকে বিচরণ করত বিশালাকার ডাইনোসর। আজ তারা সবাই পুরোপুরি বিলুপ্ত প্রজাতির তালিকায়। বর্তমানে প্রাণী বিজ্ঞানীরা শুধুই তাদের হাড়গোড়ের সন্ধান ছাড়া কিছুই দিতে পারেননি। তবে ডাইনোসরদের বিলুপ্তি হওয়ার পিছনে রয়েছে অজানা এক কারণ। আর তা হল, গ্রহাণুর বিস্ফোরণ।

পরিবেশ এবং প্রাণী বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে হাজার, হাজার বছর আগে পৃথিবীর বুকে খসে পড়েছিল অতিকায় এক গ্রহাণু। আর এই বিরাট আকারের গ্রহাণুর আঘাতে যে বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত পরিবর্তন হয়েছিল সেটাই ডাইনোসরদের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কারণ বলে মনে করেন তাঁরা। যদিও বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রকাশের কোনও ব্যখ্যা দেননি বিজ্ঞানীরা।

আরও জানা গিয়েছে, ডাইনোসরদের বিলুপ্তির পর পৃথিবীতে শুরু হয় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের যুগ। এছাড়াও বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই গ্রহাণুটি ছিল ১২ কিলোমিটার চওড়া। সেটা এসে পড়েছিল মেক্সিকো উপসাগর তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপ এলাকায়।

সেই এলাকায় তৈরি হওয়া বিশাল জ্বালামুখের ভূপ্রকৃতি এবং শিলার গঠন তন্ন তন্ন করে পরীক্ষা করে দেখেছেন গবেষক দল এবং সেই গ্রহাণুর আঘাতের চিহ্নও তারা খুঁজে পেয়েছেন।

গবেষকরা বলছেন, এত জোরে এটি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল যে তাতে ২০০ কিলোমিটার চওড়া এবং কয়েক কিলোমিটার গভীর একটি গর্ত বা জ্বালামুখ তৈরি হয়েছিল। গর্তটির কিনারগুলো তার পর ভিতর দিকে ধসে পড়ে। এর ফলে সাগরে সৃষ্টি হয়েছিল এক ভয়াবহ সুনামি। তৈরি হয়েছিল দানবাকৃতির ঢেউ।

এই গর্তটির বড় অংশই এখন আছে সমুদ্রের তলায়- তার ওপর জমেছে ৬০০ মিটার পুরু পলির আস্তরণ। মাটির ওপর যে অংশ আছে তা চুনাপাথর দিয়ে ঢাকা।

বিজ্ঞানীরা ওই এলাকাটির উপাদান পরীক্ষা করে কোনও সালফার বা গন্ধকের উপস্থিতি পাননি। তবে সমুদ্রের তলদেশের ওই জায়গাটির এক তৃতীয়াংশই ছিল জিপসামের তৈরি – যার অন্যতম উপাদান সালফার।

এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ডাইনোসরের যুগেও পৃথিবীতে পাখি ছিলো। তবে গ্রহাণুর বিস্ফোরণে তারা কেন বিলুপ্ত হয়ে যায়নি তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তবে বিজ্ঞানীরা একটি বিষয় পরিস্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বেঁচে থাকতে জল, আলো, বাতাস এবং খাবার যেমন আমাদের জন্য অপরিহার্য৷ ঠিক তেমনই প্রাণীকূলের বেঁচে থাকার জন্যও খাবার গ্রহন করা অত্যন্ত জরুরি।

আর সেই সময় এই পাখিদের বেঁচে থাকতে এবং খাবার গ্রহন ও তার সন্ধান করতে সাহায্য করেছিল তাদের চঞ্চু। কারণ, পৃথিবীতে পাখিরাই হল একমাএ জীব যারা নোংরা আবর্জনা হোক বা ছাই-মাটি সব জায়গা থেকেই খুঁটে খুৃঁটে খাবার খুঁজে বের করার ক্ষমতা রাখে। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের প্রধান হাতিয়ার হল চঞ্চু। আর এই চঞ্চুর জন্যই ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে ডাইনোসরেরা পৃথিবী থেকে পুরোপুরি ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও পাখিরা সেভাবে বিলুপ্ত হয়নি।

কারণ, পাখিরা চঞ্চুর সাহায্যে নিজের খাবার জোগার করতে পারলেও,ডাইনোসরদের পক্ষে তা ছিলো অসম্ভব। আর যেই কারণে বর্তমানে পৃথিবীতে ডাইনোসর হল এক বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী৷ তবে দিন যত যাচ্ছে ততই মানুষের অনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে-ধীরে অনেক পাখিই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। আবার অনেক পাখি রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির তালিকায়।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।