তিরুঅনন্তপুরম: নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ করার অপরাধে এক স্কুল শিক্ষককে ৬০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত। যৌন নিগ্রহের মতো ঘটনায় এ এক নজির বিহীন সাজা ঘোষণা বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, দীর্ঘ ৬০ বছরের কারাদণ্ড আগে কোনও যৌন হেনস্থাকারীকে দেওয়া হয়নি বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

২০১৭ সালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। নাবালিকা ছাত্রীর দাবি, একাধিকবার তাকে যৌন হেনস্থা করেছেন ফিরোজ নামের ওই শিক্ষক। যৌন হেনস্থার কথা কাউকে বললে তাঁর ফল ভালো হবে না বলে হুমকিও দিত ওই শিক্ষক।

কিন্তু ক্রমেই অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকায় সহপাঠীদের ওই শিক্ষকের কাণ্ড খুলে বলে ওই সিক্সের ছাত্রী। এরপর কাউন্সেলিংয়ের সময় প্রকাশ্যে আসে লম্পট ফিরোদ খানের কুকীর্তি। এমনকি পড়ুয়াদের পাশাপাশি সহকর্মী শিক্ষকরাও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান।

পকসো আদালতে চলে বিচার। বিচারের শেষে বিচারক কে সুব্রাম্মা বলেন, একজন শিক্ষকের উচিত পড়ুয়া ও সমাজের কাছে রোল মডেল হয়ে ওঠা। আদর্শ হয়ে ওঠা। এই শিক্ষক কোনওরকম সহানুভূতির যোগ্য নয়।

অন্যদিকে ২১ জানুয়ারি ফিরে এসেছে নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি। গোন্দিয়া জেলায় এক ১৯ বছরের তরুণীকে ধর্ষণ করে গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে দেওয়ার অপরাধে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। পারদি পুলিশ ষ্টেশনের ইনস্পেকটর সুনীল ছাভান জানিয়েছেন ঘটনার দিন ওই তরুণীর ভাই এবং তার এক বন্ধু কাজে বেরিয়েছিলেন।একা থাকার সুযোগ নিয়ে রাহান্দালে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাধা দেওয়াতে ওই মহিলার মুখে কাপড় চেপে ধরে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করে এবং তার শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে দেয়।

২০১২ সালে দিল্লির রাজপথে ধর্ষণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল দেশ। নির্যাতিতা তরুণীর সুস্থতা প্রার্থনা এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে একত্রে গলা মিলিয়েছিল সাধারণ মানুষ। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কেন মহিলাদের উপরে এই ধরণের নির্যাতন ঘটছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন অনেকেই। মনে করা হয়েছিল হয়তো পরিস্থিতির বদল ঘটবে। কিন্তু পুনরায় এই ধরণের ঘটনা সামনে আসাতে ফের একবার বেআব্রু হয়ে গেল সমাজের বাস্তব চিত্র।