সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুগলী: জল বাঁচাতে সফট ড্রিঙ্কস খাওয়া বন্ধ করা হোক। এমন দাবি নিয়েই বনধের ডাক দিয়েছেন স্কুল শিক্ষিকা। এমন আন্দোলনে নেপথ্যে শ্রীরামপুর পরমেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ঈশিতা কুণ্ডু। তিনি শনিবার সবাইকে অনুরোধ করেছেন কেউ যেন ঠাণ্ডা নরম পানীয় না পান করেন।

ইতিমধ্যে পানীয় জলের ঘাটতি নিয়ে সবাই চিন্তিত, কিন্তু শুধুই কি নিজে নিজের জল অপব্যবহার কমাতে হবে? নাকি সঙ্গে গর্জন করারও প্রয়োজন রয়েছে? তথ্য বলছে প্রয়োজন রয়েছে প্রতিবাদের। জল বাঁচাতে এমন প্রতিবাদেরই প্রয়োজন। কারণ গবেষণায় জানা যাচ্ছে কোকাকোলা কোম্পানির সারা বছরের জল ব্যবহার ভয়ঙ্কর।

প্রতিটি কোক ম্যানুফেকচারিং প্ল্যান্টে দৈনিক ৫ লক্ষ লিটার জলের প্রয়োজন। সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ৫৮টি এরকম প্ল্যান্ট রয়েছে। অর্থাৎ সারাবছরে যে জল ব্যবহার করা হয়, তা হল প্রায় ১০,৫৮৫ মিলিয়ন লিটার জল। এবার যদি ধরে নেওয়া যায় শেষ ২০ বছর ধরে এই পরিমাণে জলের ব্যবহার হয়েছে তাহলে তা হিসেব দাঁড়াচ্ছে ২১১.৭ মিলিয়ন কিউবিক মিটার জল খরচ হয়েছে। এই সংখ্যা নির্দেশ করছে যে শেষ কুড়ি বছরে শুধুমাত্র কোকাকোলা যে পরিমাণ জল ব্যবহার করেছে, তা অন্ততপক্ষে আগামী একবছর ধরে সারা ভারতবর্ষের তেষ্টা মেটাতে সক্ষম ছিল।

ঈশিতা কুণ্ডু বলেন , “আগামী ৬ জুলাই আমি বনধ ডাকছি কোকাকোলা,পেপসি সকল বোতলজাত পানীয় এর বিরুদ্ধে।

সেই দিন আমি কোনোও কোল্ড ড্রিনক কিনবো না। খাবোও না। আর আগামী দিনে লোভ কাটিয়ে এটা পার্মানেন্ট ‘না’ করার চেষ্টা করবো। কর্পোরেটকে শায়েস্তা করার একটা রাস্তা হল বেচুবাবুকে মাল বেচতে দেওয়া যাবে না। মানে তার প্রোডাক্ট সেল হতে দেওয়া যাবে না। প্রোডাক্ট না থাকলে কোম্পানী থাকবে না। জল লুঠ হবে না।দূষণও বাধ মানবে।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “বিপুল জলের অপচয় এবং নিকটবর্তী অন্যান্য জলের উৎসকে দূষিত করার মাধ্যমে যে জটিল সমস্যা তৈরি করেছে এই মাল্টিন্যাশনলরা তা কি কেবলমাত্র ব্যক্তিগত অপচয় কমিয়ে রোখা সম্ভব? স্পঞ্জ আয়রনের কারখানা এবং স্টিল কোম্পানীগুলির ক্ষেত্রেও একইরকম সমস্যা বর্তমান।”

এখানেই সমস্যা শেষ নয়। অপরিমিতভাবে জল ব্যবহারের পাশাপাশি এই কোম্পানিগুলির যে বিপুল পরিমান বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়, তা প্ল্যান্টের এলাকার ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে সকল জলের উৎসকে দূষিত করছে। যা পানীয়যোগ্য নয়, কৃষিকাজে এর ব্যবহার সম্ভব নয়। অর্থাৎ স্লো ডেথই একমাত্র ভবিতব্য। বর্জ্য পদার্থের মধ্যে লেড (অধিক পরিমাণে লেড শিশুদের জন্য বিপজ্জনক, অ্যানিমিয়া এবং নানান রকমের মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে) এবং ক্যাডমিয়ামের (ক্যাডমিয়াম কার্সিনোজেনিক, কিডনর সমস্যার কারণ) উপস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেশি।

কেরালার পালাক্কাড জেলায়, তামিলনাড়ুর থিরুনেভেলি জেলা, উত্তরপ্রদেশের মেহদিগঞ্জ জেলা, মহারাষ্ট্রের থানে এই সমস্যায় জর্জরিত। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে এই সমস্ত অঞ্চল থেকে কোকাকোলা তার সমস্ত প্রোডাকশন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। তবুও দুর্দিন রোখা যায় নি। ঠিক এই কারনেই জল বাঁচাতে এমন অভিনব প্রতিবাদে নেমেছেন শিক্ষিকা।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব