প্রতীতি ঘোষ,বারাসত: পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ভর্তিকে কেন্দ্র করে স্কুলে বিক্ষোভ। প্রধান ফটকে তালা ঝোলালেন আন্দোলনকারী অভিভাবকরা। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের কালীকৃষ্ণ গার্লস হাইস্কুল।

বারাসতের কালীকৃষ্ণ গার্লস হাইস্কুলে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠন পাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে৷ এই স্কুলে সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়ানো হয়৷ অর্থাৎ চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়৷ আর দুপুরে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হয়৷ স্কুলের যে সব ছাত্রী চতুর্থ শ্রেণী পাস করেছে,তারা এই স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন জানিয়েছে৷

অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণী পাস করা যে সব ছাত্রী ১ কিলোমিটারের বেশি দূরে থাকে, তাদের এই স্কুলে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেন উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত ৷ ফলে উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগে একই স্কুলে ভর্তি নিয়ে সমস্যায় পড়েছে ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ওঠা ছাত্রীরা৷ স্কুলে ভর্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা আন্দোলনে নামেন৷

মঙ্গলবার বারাসাত কালী কৃষ্ণ গার্লস স্কুলের গেটে তালা মেরে স্কুলের শিক্ষিকাদের আটকে রাখেন৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বারাসাত থানার পুলিশ৷ অভিভাবকরা পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখান৷ ঐদিন দুপুরে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রীরা স্কুলে আসলেও গোলমালের জেরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়৷ গোটা ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে স্কুল চত্বরের পরিস্থিতি৷

“আমরা পড়তে চাই”এই দাবি তে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ছাত্রীরা স্কুল চত্বরে বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন৷ মূলত ওই স্কুলেরই চতুর্থ শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে উন্নীত ছোট ছোট ছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখায়৷ অবিলম্বে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি নেওয়ার দাবিতে স্কুলের ছাত্রীরা এবং অভিভাবকরা পথ অবরোধও করেন । অভিভাবকদের দাবি, স্কুলে ছাত্রীদের পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি নিতে হবে৷

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বিভাগের ৬৯ জনকে ইতিমধ্যেই ভর্তি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাকিদের ভর্তি করার কথা নয়। এই নিয়ে সমস্যার কথা জেলা শিক্ষা দফতর ও জেলাশাসককে জানানো হয়েছে।