স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বোরলবাঁদি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ স্কুলের পাশেই রয়েছে বাঁকুড়া-মশাগ্রাম বি.ডি.আর রেল লাইন আর ঠিক তার অদূরেই বর্ধমানগামী রাজ্য সড়ক। রেললাইন আর ব্যস্ততম রাজ্য সড়ক পার হয়ে অসংখ্য ছাত্র ছাত্রী যেমন প্রতিদিন স্কুলে আসে, তেমনি স্কুলের কোনও পড়ুয়া যদি কখনও ভুল করে পৌঁছে যায় রেল লাইন বা রাজ্য সড়কের উপর! তখন কি হবে তা ভেবেই কূল কিনারা পান না শিক্ষক থেকে অভিভাবক সকলেই।

সুদৃশ্য দোতলা স্কুল বাড়ি। ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ৯৮। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন তিন জন। নিয়মিত মিড-ডে-মিল রান্না হয়। পড়াশুনার সাফল্যের হার বরাবর উর্দ্ধমুখী। কিন্তু এতোসবের পরেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক থেকে অভিভাবক সকলেই। কারণ একটাই, স্কুলে নেই কোন সীমানা পাঁচিল।

অভিভাবক সন্দীপ দত্ত বলেন, এতো গুলি ছোটছোট ছেলেমেয়েকে মাত্র তিন জন শিক্ষকের পক্ষে দেখাশোনা করা জটিল। স্কুলের পাঁচিল তৈরীর জন্য বিভিন্ন স্তরে বার বার আবেদন জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। রেললাইন আর রাজ্য সড়কে কোন ছাত্র ছাত্রী দুর্ঘটনার শিকার হলে তার দায় কে নেবে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও পড়ুন : ভারতের সঙ্গে কথা বলে আর কোন লাভ নেই, হতাশা উগড়ে দিলেন ইমরান

গ্রামবাসী সুজিত বাগ বলেন, প্রধান শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্কুলের পাঁচিল তৈরীর আবেদন জানাতে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, বিডিও এমনকি জেলা পরিষদ পর্যন্ত গিয়েছি৷ সব জায়গাতেই প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি। যদি কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যায় তখন ছাত্র ছাত্রীর অভাবে এই স্কুল চিরতরে বন্ধই হয়ে যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

রেললাইন আর রাজ্য সড়ক পেরিয়ে আসা ছাত্র ছাত্রীরাও ভীত সন্ত্রস্ত। নৈতিক কোনার, নিবেদিতা লোহাররা বলে, স্কুলের পাশ দিয়েই রেল লাইন গেছে। ওই রেললাইন পেরিয়েই অনেকে প্রতিদিন স্কুলে আসে। অধিকাংশ সময় পরিবারের লোকেরা স্কুলে পৌঁছে দিয়ে গেলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয়না। সমস্বরে তাদেরও দাবী দ্রুততার সঙ্গে স্কুলের পাঁচিল তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, স্কুলের পাঁচিল না থাকা নিয়ে আমরাও ভীষণ চিন্তার মধ্যে আছি। রেল লাইন পেরিয়ে এক দেড় কিলোমিটার দূর থেকে ছেলে মেয়েরা এখানে পড়তে আসে। একটা সময় স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে পুলিশের তরফে সিভিক ভল্যান্টিয়ার নিয়োগ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন : ৭দিনের মধ্য়ে রাস্তার গর্ত সারাই হবে, সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার

অভিভাবকদের পাশাপাশি পড়ানোর ফাঁকেই তিন জন শিক্ষকের এক জনকে বাইরে পাহারায় থাকতে হয়। যাতে কোন ছাত্র ছাত্রী অসাবধানবশতঃ রেল লাইনের ওদিকে যায়। রেল দফতরকেও এই সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কাছে স্কুলের পাঁচিল তৈরীর আবেদন করা হয়। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের পরামর্শ অনুযায়ী বাঁকুড়া জেলা পরিষদকে জানালে তারা এবিষয়ে অগ্রসর হয়েছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলেই তিনি জানান।

এবিষয়ে বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, ‘ফান্ড’ নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। ঐ স্কুলের পাশ দিয়ে রেল লাইন যাওয়ায় পাঁচিল তৈরী ভীষণ জরুরী হয়ে পড়েছে। যতো দ্রুত সম্ভব ওই স্কুলের পাঁচিল তৈরী করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।