ফাইল চিত্র৷

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গু প্রতিরোধে অবশেষে খুদেদের পাঠ্যক্রমকেই হাতিয়ার করছে রাজ্য সরকার৷ স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো মশা বাহিত রোগ সম্পর্কে বাড়তি সচেতনতার লক্ষ্যে ষষ্ট শ্রেণির পাঠ্যক্রমেই একটি বিশেষ অধ্যায় সংযোজিত করা হচ্ছে৷

স্কুল শিক্ষা দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘বহু ক্ষেত্রে জনমানসে সচেতনতা গড়ে না ওঠার ফলেই এবারে রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গু সহ মশা বাহিত বিভিন্ন রোগ মহামারির আকার নিয়েছে৷ তাই মশা বাহিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতার লক্ষ্যে এবার ষষ্ট শ্রেণির পাঠ্যক্রমে একটি বিশেষ অধ্যায় সংযোজিত করা হয়েছে৷ এর ফলে পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদেরও এবিষয়ে অনেকখানি সচেতন করা সম্ভব হবে৷ তাই এই উদ্যোগ৷’’

জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরের যৌথ উদ্যোগেই তৈরি করা হয়েছে পাঠ্যক্রমের নতুন অধ্যায়৷ জ্বর বিষয়ক নতুন এই অধ্যায়ে বিভিন্ন ধরণের জ্বরের কারণ, উপসর্গ, কীভাবেই বা প্রতিরোধ সম্ভব- বিভিন্ন ছবি সহকারে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে৷ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, জাপানি এনসেফেলাইটিস এবং ডায়ারিয়া নিয়ে একাধিক জানা-অজানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সূত্রের খবর, নয়া এই পাঠ্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ে। ডেঙ্গুর উপসর্গ কী, এই সম্পর্কে পড়ুয়াদের সম্যক ধারণা তুলে ধরতে একাধিক ছবি দেওয়া হয়েছে পাঠ্যক্রমে৷ কীভাবে ডেঙ্গু মশার নিধন সম্ভব, তাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে৷ একই সঙ্গে মশা বাহিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো, বাড়ির আশে পাশে জল জমতে না দেওয়ার,পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে৷

ষষ্ট শ্রেণির পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি একাদশ শ্রেণিতে শারীর শিক্ষা বইয়ে, অষ্টম শ্রেণিতে পরিচ্ছন্নতার উপর অধ্যায়েও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতার কথা বলা হয়েছে৷ ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারে যেভাবে রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গু মহামারির আকার নিয়েছে, তাতে রাজ্যজুড়ে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতর স্কুল পড়ুয়াদের পাঠ্যক্রমকে হাতিয়ার করেই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা বাড়াতে চাইছে৷

স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বহু ক্ষেত্রে বারংবার প্রচার অভিযান করার পরও সাধারণ মানুষ উপযুক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেন নি৷ তা না হলে ডেঙ্গু এতখানি মহামারির আকার নিতে পারত না৷ শিশুদের পাঠ্যক্রমে ডেঙ্গু সহ মশা বাহিত বিভিন্ন রোগের  বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি করায় পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকদেরও অনেকখানি সচেতন করা সম্ভব হবে৷’’ তাতে আখেরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আরও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা৷