স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: মিডডে মিলের জন্য ছাত্র পিছু বরাদ্দ মাত্র ৪টাকা ৪৮ পয়সা। এই টাকাতেই প্রত্যেককে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। সামান্য এই টাকায় ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার দিতে অধিকাংশ শিক্ষকেরই হিমশিম অবস্থা।

সম্প্রতি হুগলিতে স্কুলে নুন ভাত দেওয়া নিয়ে রাজ্য জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে এরাজ্যেরই দক্ষিণ দিনাজপুরের চিত্রটা যদিও একটু অন্যরকমের। এখানে অধিকাংশ স্কুলেরই শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের পয়সা জুড়ে পড়ুয়াদের মিডডে মিলে পুষ্টিকর খাবার দিচ্ছেন।

এমনই এক স্কুল আদিবাসী অধ্যুষিত জলঘর এলাকার ধারাইল এফপি স্কুল। এই স্কুলের শিক্ষিকারা সরকারি নির্দেশিকা মেনে শুধু ডিম মাছ সোয়াবিন ও সবজির তরকারিই নয়। মাসের বিশেষ দিনে মাংসও খাওয়াচ্ছেন মিডডে মিলে। আর এসবটাই সরকারি বরাদ্দের সাথে স্কুলের দুই শিক্ষিকা মিলন মজুমদার ও সুতপা বাগচী নিজেদের বেতন টাকা থেকে জুড়ে মিডডে মিলের খরচা চালাচ্ছেন।

স্কুলে এসে ডিম মাংস অথবা মাছ পেয়ে যারপরনাই খুশি আদিবাসী অধ্যুষিত দুস্থ অসহায় পরিবারের কচিকাঁচারা। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিলন মজুমদার জানিয়েছেন যে তাঁদের স্কুলে ৯৯ শতাংশ বাচ্চা আদিবাসী দুস্থ পরিবারের। বাড়িতে তাদের পুষ্টিকর কোন খাবারই জোটে না। স্কুলে এসে মিডডে মিলই তাদের একমাত্র পুষ্টির খাবারের ভরসা। এই পরিস্থিতিতে মিডডে মিলের সামান্য বরাদ্দে অন্যান্য কিছুতো দূর, একটা ডিমই কেনা যায় না। কিন্তু তবুও তাঁরা বিডিও কর্তৃক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়াচ্ছেন। পালা করে মাছ মাংস সয়াবিন ও ডিম রান্না করে শিশুদের পাতে দেন। এর জন্য বাড়তি খরচের টাকাটা নিজেদের বেতন থেকেই মিটিয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

এব্যাপারে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ প্রবীর রায় জানিয়েছেন যে ছাত্র পিছু বরাদ্দ টাকায় বাচ্চাদের রান্না করা পুষ্টিকর খাবার যোগানো সত্যিই অসম্ভব। কিন্তু তবুও জেলার অধিকাংশ স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের নিজের সন্তান ভেবে বেতনের টাকা থেকে খরচ করে মাছ মাংস ও ডিম ভাত খাওয়াচ্ছেন। সরকারের উচিত মিডডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর।