আজকাল বেশির ভাগ ছেলেমেয়েই ২০-২১ বছর বয়সে টাকা রোজগার করতে শুরু করেন। তাঁরা চান ৩০ বছরে মধ্যে নিজেদের আর্থিক ব্যাপারটা মোটামুটিভাবে গুছিয়ে নিতে। ৩৫ -৪০ বছরের পর যাতে আর তেমন কোনও আর্থিক চিন্তা না থাকে, সেরকমভাবেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ৩০ বছরের আগে। তবে সেটা তো একদিনে হয় না। তার জন্য কয়েক বছর প্রচেষ্টা করতে হয়।

অল্প বয়সে টাকা পয়সা সামলে নিয়ে আরও প্রতিপত্তি বাড়ানোর কয়েকটি উপায় রয়েছে।

ট্যাক্স বাঁচান:
সবার আগে ট্যাক্সের টাকা বাঁচানোটা প্রয়োজন। সঠিক উপায়ে ট্যাক্স বাঁচালে বেশ কিছুটা টাকা জমে যেতে পারে। এর জন্য ট্যাক্স ছাড় হয়, এমন জায়গায় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। ELSS হল এমন একটি স্কিম, যা অনেকটা মিউচুয়াল ফান্ডের মত। এতে ইনভেস্ট করলে বছরে ১.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স বাঁচবে।

এমার্জেন্সির জন্য তৈরি থাকুন:
টাকা অনেকেই জমান। কিন্তু জরুরি অবস্থার কধা ভাবেন না কেউ। হঠাৎ কোনও অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য তৈরি থাকা দরকার। নাহলে সেরকম পরিস্থিতিতে জমানো পুরো টাকাটাই খরচ হয়ে যেতে পারে। এর জন্য একটা জায়গায় কিছু টাকা ইনভেস্ট করুন, যা সুদে বাড়বে। তবে এমনভাবে ইনভেস্ট করবেন না যেখানে টাকাটা কয়েক বছরের জন্য আটকে যায়। যে কোনও সময় তুলতে পারবেন, এরকম জায়গায় ইনভেস্ট করুন।

লং টার্ম ইনভেস্টমেন্ট:
ভবিষ্যতের জন্য অনেকেরই অনেক স্বপ্ন থাকে। যেমন ধরুন, ফ্ল্যাট কেনা, বিশ্ব ভ্রমণ, নিজের ব্যবসা শুরু করা ইত্যাদি। এর জন্য অনেক আগে থেকে টাকা জমানো প্রয়োজন। নিজেকে ঠিক করে নিতে হবে যে ঠিক কত টাকা আপনার প্রয়োজন। সেইভাবে মাসে মাসে ইনভেস্ট করুন কোথাও। যে টাকা একটা নির্দিষ্ট সময়ের আগে তুলতে পারবেন না। তাহলেই নির্দিষ্ট সময় হাতে টাকা থাকবে।

শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্ট:
বেড়াতে যাওয়া, ছোটখাটো সোনার গয়না বা গাড়ি কেনা, এসব স্বপ্ন যদি থাকে তাহলে ছোট সময়ের জন্য ইনভেস্ট করুন। এক বছরের জন্য কোনও মিউচিয়াল ফান্ডে টাকা রাখতে পারেন। এক বছর পর সেই টাকা তুলে পছন্দের জিনিস কিনে ফেলুন।

স্বাস্থ্যের জন্য বিনিয়োগ:
৩০ বছরের আগে অবশ্যই হেল্থ ও লাইভ কভার ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে। বিশেষত হেল্থ ইনসিওরেন্সে অবশ্যই টাকা রাখা দরকার। আর যদি আপনার রোজগারের উপর আপনার পরিবার নির্ভর করে, তাহলে লাইফ কভার করাটাও প্রয়োজন।