কলকাতা: এএফসি কাপের ম্যাচে হেরে খালি হাতে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড৷ ফিরেই আই লিগে স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়ার কাছে আটকে গিয়েছিল এলকো স্যাতোরির দল৷ শনিবাসরীয় ডার্বিতে তাই জয়ে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছে গোটা শিবির৷

বিপক্ষে শক্তিশালী মোহনবাগান৷ চলতি টুর্নামেন্টে দুরন্ত পারফর্ম করে আপাতত তালিকার শীর্ষে সঞ্জয় সেনের দল৷ সেই কথা ভেবে অবশ্য হারার আগেই হারতে রাজি নয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা৷ কারণ এই ম্যাচটা হেরে লেগে আই লিগ খেতাব জয়ের দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে হবে ইস্টবেঙ্গলকে৷

শনিবার বিকেল সাড়ে চারটেয় যুবভারতীতে ম্যাচ শুরু৷ তাই শুক্রবার সাত সকালে সল্টলেক স্টেডিয়ামের টার্ফেই অনুশীলন সারলেন হরমনজ্যোৎ খাবরারা৷ সমর্থকরা মাঠের পাশে ভিড় জমালেও কোচের নির্দেশে এদিন সাংবাদিকদের ১৫ মিনিটের বেশি মাঠে থাকার অনুমতি ছিল না৷ ম্যাচ প্র্যাক্টিসের থেকে বেশি সেট পিসেই বেশি জোর দিতে দেখা গেল ডাচ কোচকে৷ ফুটবলাররা যাতে ফ্রি-কিক বা পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ নষ্ট না করেন, সেদিকেই কড়া নজর স্যাতোরির৷

ডার্বিতে দল নিয়ে টুকটাক পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে পারেন তিনি৷ অনুশীলন থেকে অন্তত সেরকম ইঙ্গিতই পাওয়া গেল৷ গোলে অভিজিৎ মণ্ডলের বদলে নামানো হবে শুভাশিস রায়চৌধুরিকে৷ অধিনায়ক খাবরাকে খেলানো হতে পারে রাইট ব্যাকে৷ দুই স্টপার অর্ণব ও সুসাক৷ লেফট ব্যাকে থাকবেন রবার্ট৷ মাঝমাঠে মেহতাবকে আবার বিশেষ ভূমিকায় দেখা যাবে৷ বিপক্ষকে শুধু ব্লক করাই নয়, বল রিসিভ করে র‍্যান্টি-ডুডুকে পাস বাড়ানোর গুরু দায়িত্বও তাঁর কাঁধে৷ দুই হাফে টুলুঙ্গা ও লালরিন্ডিকা৷ ব্লকার হিসেবে মেহতাবের সঙ্গী রফিক৷ সামনে ডুডু- র‍্যান্টি৷ ফুটবলারদের কথা বলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ক্লাব৷ মুখ খুললেই জরিমানা৷ তবে মাঠ ছাড়ার আগে মেহতাব হোসেন বলে গেলেন, ‘আগামীকাল ফিফটি-ফিফটি ম্যাচ হবে৷ তবে লাগাতার জয়ের মধ্যে থাকায় বাগান আমাদের থেকে ওরা খানিকটা এগিয়েই শুরু করবে৷ লড়াইটা মাঠেই হবে৷ তাই আগে থেকে কিছু বলতে চাই না৷’ মুখে কুলুপ আঁটা র‍্যান্টি শরীরি ভাষায় বুঝিয়ে দিলেন জবাবটা দেবেন মাঠেই৷ অনুশীলনের পর বাড়ি ফেরার সময় একঝাঁক ক্ষুদে সমর্থক ঘিরে ধরলেন ডুডু-র‍্যান্টিকে৷ লাল-হলুদের দুই নাইজেরীয় স্ট্রাইকারের কাছে তাদের আবদার, জোড়া গোল দিয়ে হারাতে হবে গঙ্গাপারের ক্লাবকে৷

আই লিগের গত ডার্বিতে শক্তিশালী বাগানকে আটকে দিয়েছিলেন র‍্যান্টি৷ এবারও নাইজেরীয় গোলমেশিনের ওপরই ভরসা রাখছে লাল-হলুদ সমর্থকরা৷ ৮ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সবুজ-মেরুনের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে ইস্টবেঙ্গল৷ বড় ম্যাচে বাগানকে আটকে দিয়ে আই লিগ জয়ের দৌড়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে মরিয়া এলকো অ্যান্ড কোম্পানি৷