ব্যাংকক: মারণ করোনার ঠেলায় বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী। অদৃশ্য এক মারণ ভাইরাসের কবলে পড়ে সারা দুনিয়া আজ প্রবল সংকটের সম্মুখীন। মৃত্যু মিছিল আর অসহায় মানুষদের হাহাকারের শব্দে এখন চারিদিকে কান পাতলে শোনা যাবে আমজনতার ত্রাহি ত্রাহি রব। কবে মিলবে মারণ এই করোনার হাত থেকে মুক্তি সদুত্তর জানা যায়নি এখনও। তবে মুক্তির সন্ধানে নিরন্তর চলছে আলোচনা গবেষণা।

আর এই অবস্থায় মহা বিপদে পড়েছেন পতিতালয়ের যৌনকর্মীরা। কারন, শারীরিক চাহিদা মিটে গেলে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় এদের। মান সম্মান দুঃখ কষ্ট ব্যথা বেদনা যে কিছুই থাকতে নেই এদের। ওরা শুধুই শারিরিক এবং মানসিক চাহিদা মেটানোর পন্য। ফলে এই অবস্থায় সাবধানতা বজায় রাখতে যৌনপল্লির দরজায় পা বাড়াচ্ছেন না খরিদ্দারেরা। যার কারনে, জীবন ও জীবিকায় টান পড়ায় মহা সমস্যায় পড়েছেন যৌন কর্মীরা।

নাহ এখানে ভারতের কোনও পতিতালয়ের অবাঞ্ছিত নারীদের কথা বলা হছে না। বিশ্বের এমন মহামারীতে জীবিকার ক্ষেত্রে গভীর সংকটে পড়েছেন, সুদূর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের যৌন কর্মীরা।

কারনটা হল, করোনাভাইরাস। মারণ এই ভাইরাসের দাপটে যেমন বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলি আন্তর্জাতিক পরিবহন আপাতত স্থগিত রেখেছে। তেমনই থাইল্যান্ডের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম লাগু হয়েছে।

ফলে স্বপ্নের মতো সুন্দর এই দেশে যেমন বিদেশী পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। তেমনই করোনা মোকাবিলায় সাধারণকেও বাইরে বেরোতে মানা করেছেন থাইল্যান্ডের রাজা।

এই অবস্থায় শুনশান থাইল্যান্ডের রাজপথ থেকে শুরু করে হোটেল, বার। রেস্তরাঁ। সব কিছুই এখন জন মানবহীন। শুধু তাই নয়, মারণ ভাইরাস করোনার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এখানকার পতিতালয় গুলিতেও। যার কারনে খরিদ্দার শূন্য যৌন কর্মীরা শুধুমাএ বেঁচে থাকার জন্য রাস্তায় নেমে এসেছেন। খাদ্য সংকটে ভুগছে প্রায় তিন লক্ষ যৌনকর্মী।

এদিন আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থার থাইল্যান্ডের এক যৌনকর্মী জানিয়েছেন, করোনার কবলে পড়ে তাদের এতটাই দূর্দশা যে খাবারের সন্ধানে এবং দুটো টাকা রোজগারের তাগিদে তারা আজ পতিতালয় থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। অপর এক যৌনকর্মী বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার সাধারণ মানুষের কথা ভাবলেও, তাঁদের নানা সুযোগ সুবিধার বন্দোবস্ত করে দিলেও আমাদের কথা ভাবে না প্রশাসন। কারন, আমরা যে যৌনকর্মী। আমাদের পেটের খিদে থাকতে নেই। আছে শুধু শরীরের খিদে। শুধু তাই নয়, যে ভাবে করোনা ভাইরাসের জন্য বিশ্বের অর্থনীতির গতি ক্রমশ শ্লথ হয়ে যাছে তাতে, আগামী দিনে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো এদেশেও ব্যবসা বাণিজ্য সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। আর এই অবস্থায় সরকার তাদের মুখাপেক্ষী না হলে করোনার কারনে না খেতে পেয়েই হয়ত মরতে হবে তাদের।

এদিকে বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়া মারণ এই ব্যাধিতে থাইল্যান্ডে এখনও পর্যন্ত প্রান হারিয়েছেন ২০জন। আক্রান্ত ২০০০ এর উপরে। এই অবস্থায় করোনা রুখতে কার্ফু জারি করেছে থাই সরকার। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে থাইল্যান্ড সরকার একটি বিশেষ ঘোষনা করেছেন সেদেশের চাকুরীরত কর্মীদের জন্য।

জানা গিয়েছে, করোনার কারনে বর্তমানে কর্মহীন শ্রমিকদের থাই সরকার তিন মাসের আপৎকালীন একটি বিশেষ ভাতা বরাদ্দ করেছে। সেই স্কিমে খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে ১৫০ ডলার। যদিও এই তালিকা থেকে ব্রাত্য রয়ে গিয়েছেন সেখানকার যৌনকর্মীরা। কারন, তাঁরা যে সরকারি কর্মীচারি নয়, শুধুমাত্র ভোগ্যপণ্য।