নয়াদিল্লি: সরকার বাঁচাতে মরিয়া ছিলেন স্পিকার৷ ১০ কংগ্রেসী পদত্যাগী বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণ করতে চাননি তিনি৷ কিন্তু, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ৷ ১০ পদত্যাগী কংগ্রেসের বিধায়ককে কর্নাটকের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে আদেশ দিল দেশের শীর্ষ আদলত৷ ফের পদত্যাগ করতে হবে বিদ্রোহীদের৷ স্পিকারকে তাদের কথা শুনতে হবে৷ এদিনই স্পিকারকে তাঁর মতামত আদালতে জানাতে হবে৷

এই রায় শুনে ইতিমধ্যেই মুম্বই থেকে কর্নাটকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন কর্নাটকের ১০ পদত্যাগী কংগ্রেস বিধায়ক৷ এর আগে সুপ্রিম কোর্টে গড়ায় কর্নাটকের রাজনৈতিক জটিলতা। কংগ্রেস-জেডিএস সরকারের দশ’জন বিধায়ক যথাযথ নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়ায় তা গ্রহণ করেননি বিধানসভার স্পিকার কে আর রমেশ কুমার। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বুধবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস ও জেডিএসের ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক।

গতকালই বিদ্রোহী বিধায়কদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মামলা দায়ের করেন আইনজীবী মুকুল রোহাতগি। দ্রুত এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করার জন্য আবেদন করেছিলেন তারা৷ মামলাকারীরা আবেদনে বলেন, তারা নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে নতুন করে নির্বাচন চাইছেন। কিন্তু স্পিকার এই বিধায়কদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করছেন না। নিজেদের আবেদনপত্রে ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়ক জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সরকারকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন স্পিকার।

এদিকে, কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের সঙ্কট এবং রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে কংগ্রেস। একদিন আগেই এই পরিস্থিতির পিছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মস্তিষ্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। এদিন কংগ্রেসের সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জেডিএস প্রধান দেবেগৌড়াও।

কংগ্রেস-জেডিএসের এই অভিযোগ অবশ্য খারিজ করে দিয়েছে বিজেপি। পাল্টা রাজ্যের জোট সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের৷ গণতন্ত্র লুঠের প্রতিবাদে এদিন সংসদের বাইরে বিরোধী দলগুলি প্রতিবাদে মুখর হয়৷