স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হাওড়ার বিজেপি যুব মোর্চার সদস্য প্রিয়াঙ্কা শর্মা৷ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে৷ তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে৷ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলা ওঠে৷

সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, আমরা জামিন দিতে রাজি৷ কিন্তু প্রিয়ঙ্কা শর্মাকে ক্ষমা চাইতে হবে৷ আইনজীবী এল কে কাউল বিজেপি নেত্রীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন৷ তিনি বলেন, ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হলে তা বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হতে পারে৷ ওকে জামিন দেওয়া হোক৷ তারপর ওকে আমি ক্ষমা চাইতে বলতে পারি৷

কিছুদিন আগে ওই ঘটনা ঘটার পর হাওড়া পুলিশ প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করে৷ তবে প্রিয়াঙ্কার সমর্থনে বাবুল সুপ্রিয়সহ বিজেপির বেশ কিছু নেতা সরব হন৷ ওই নেতারাও স্যোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবিটি পোস্ট করেন৷ এরপর ঘটনাটি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত৷ প্রিয়ঙ্কার পরিজনেরা আদালতে আবেদন করেন৷ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে – আমরা জামিন দিতে রাজি৷ কিন্তু প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে ক্ষমা চাইতে হবে৷

উল্লেখ্য, হাওড়ার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা বিভাস হাজরা অভিযোগ জানান থানা৷ বিভাসবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০০, ৬৬ এ ও জামিন অযোগ্য ধারা ৬৭ এ-তে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার মুক্তির দাবিতে সরব হয়ে হাওড়ায় বড় মিছিল করে বিজেপি। হাওড়া ব্রিজ থেকে দাসনগর পর্যন্ত ওই মিছিলে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল৷

প্রিয়াঙ্কার সমর্থনে সরব হন অসমের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা৷ তিনি প্রয়ঙ্কার পরিবারকে সবরকম সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন৷ হিমন্ত এও বলেছেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ দরকার হলে প্রিয়ঙ্কার বাড়ি যাবেন৷ তৃমমূল আইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে৷ আইন আইনের কাজ করুক৷

বিজেপি নেতা এবং জাতীয় মুখপাত্ক মুখতার আব্বাস নকভি অভিযোগ করেন, তৃণমূলক কংগ্রেস বাংলায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে৷ তবে প্রিয়ঙ্কার ভয়ের কোনও কারণ নেই৷ পার্টি প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে রয়েছে৷ তবে প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে কথা বলেনি সিপিএম এবং কংগ্রেসও৷ প্রচ্ছন্নে প্রিয়াঙ্কাকে সমর্থন করেছে অন্য দুই বিরোধী দলও৷ মুকুল রায় প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মালনে বলেছেন, রাজ্যের দিকে দিকে যে সাইবার ক্রাইম থানা হয়েছে তাদের কাজ নবান্নর নির্দেশে কাজ করা৷ সাধারণ মানুষকে অপদস্ত করা৷

রাজ্যের এক অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করে পুলিশের কোপে পড়েছিলেন৷ ওই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়৷ পরে ছাড়া পান অম্বিকেশ৷